একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ২ টার দিকে শহরের সিটি কলেজপাড়ার বাসিন্দা ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পুরাতন মটর টায়ার-টিউব ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলামের ছেলে হামিদপুর ডিগ্রি কলেজের ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম আকাশ ও তার এক বন্ধু কলেজ থেকে বাড়ি ফিরছিল। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে কতিপয় সন্ত্রাসী তাদের ধরে নিয়ে যায় সিটি কলেজপাড়া পানির ট্যাংকির কাছে। এরপর দুর্বৃত্তরা তাদের মারপিট করে ছেড়ে দেয়। নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ পুরাতন মটর টায়ার-টিউব দোকানের মালিক ও কর্মচারীরা মিছিল নিয়ে মোল্লাপাড়ার বাঁশতলায় সন্ত্রাসীদের খোঁজাখুঁজি করতে যান। এ সময় সন্ত্রাসী নান্নু, ডিম রিপন, সেতু, মমিন ও মিন্টুসহ আরও কয়েকজন দুর্বৃত্ত অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। তারা তাদের লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে ২৫/৩০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। একটি গুলি রিপন নামে এক দোকান কর্মচারীর বুকে লাগলে সে পড়ে যায়। আরেকটি গুলি তার (নজরুল ইসলামের) ডান পায়ে বিদ্ধ হয়। তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে তারা সেখান থেকে চলে আসেন। সূত্র জানায়, আহত রিপন শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার আকবর আলীর ছেলে। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অপর আহত নজরুল ইসলামও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে নজরুল ইসলাম আরও জানান, এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তার ওপর চরম ক্ষিপ্ত রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসী হারুন-অর-রশিদ ফুলু পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তার সন্ত্রাসীরা তার ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। ওই সন্ত্রাসীরা ফুলুর লোক। এরই জের ধরে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটায়। ওই ঘটনার পর বর্তমানে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ওই নির্বাচনে ফুলুর বিপক্ষে কাজ করেন নজরুল ইসলাম। ফলে নির্বাচনে হেরে গিয়ে ফুলুর লোকজন তার ওপর ক্ষিপ্ত রয়েছে।
অপরদিকে যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি মডেল থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, এলাকায় নান্নু-ডিম রিপন পক্ষ ও শাকিল-আরিফ পক্ষ রয়েছে। এদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারসহ নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে নান্নু-ডিম রিপন পক্ষ শাকিল-আরিফ পক্ষের ওপর হামলা চালায় বলে তারা জানতে পেরছেন। ওসি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের আটকের চেষ্টা চলছে।
আরো সংবাদ পড়ুন

0 মন্তব্যসমূহ