কালের
গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পীর রং-তুলির ছোঁয়া। প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ না
থাকায় অভাব অনটনের মধ্যে সংসার চালাচ্ছে নগরীর বাণিজ্যিক শিল্পীরা। অনেকে
চলে গেছেন অন্য পেশায়। নগরীর রূপসা এ্যাডঃ এর মালিক মোঃ এরশাদুল জামান আশিক
বলেন,
১৯৯০
সাল থেকে তিনি বানিজ্যিক শিল্পীর কাজ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে ডিজিটাল
যুগে আধুনিক প্যানা, পিভিসি এসে বানিজ্যিক শিল্পীদের কাজ নেই বললেই চলে।
আগে যেখানে মাসে ১৫ হাজার টাকা ব্যবসা হতো সেখানে বর্তমানে ৩ হাজার টাকা
ব্যবসা হয় না।
তিনি
আরো বলেন, ডিজিটাল প্যানা ও পিভিসি স্থায়ী ও দেখতে সুন্দর বলেই মানুষের
আগ্রহ এখন ঐ দিকে কিন্তু এই প্যানা বা পিভিসি কতটুকু পরিবেশ বান্ধব সেটাও
দেখার বিষয়। যে হারে প্যানা ও পিভিসি’র ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে
পলিথিনের মত কোন দিন এটাকেও নিষিদ্ধ না করতে হয়।
তিনি
আরো অভিযোগ করেন, ডিজিটাল প্যানা ও পিভিসি ব্যবসায় পুঁজি বেশি লাগায়
বানিজ্যিক শিল্পীদের পক্ষে এই ব্যবসা করা খুবই দূরহ ব্যাপার। সেই সুযোগে
ডিজিটাল প্যানা ও পিভিসি ব্যবসায় পুঁজিবাদীরা চলে আসছে।
এক সময়
বানিজ্যিক শিল্পীর কাজ করলেও বর্তমানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল
প্যানা ও পিভিসি তৈরীর কাজ করছেন নগরীর স্যার ইকবাল রোডস্থ শিল্প রং
ডিজিটাল এর মালিক মোঃ ওমর ফারুক রাজু। তিনি বলেন বানিজ্যিক শিল্পের চাহিদা
কমে যাওয়ায় ব্যাংক লোন ও ধার কর্য করে ডিজিটাল মেশিন কিনি কিন্তু বিনিয়োগ
অনুযায় ব্যবসা অনেক কম। তিনি বলেন নির্বাচন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের
কর্মসূচী, ধর্মীয় উৎসবের সময় কাজ বেশি হলেও অন্যান্য সময় কাজ থাকে খুব কম।
খুলনা
বাণিজ্যিক কল্যাণ সমিতি রেজি নং ৫৮৮/৯৬ এর সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান
আসাদ বলেন, তার সমিতি ৩৭৫ জন বানিজ্যিক শিল্পী সদস্য আছে। বর্তমানে কাজ না
থাকায় প্রায় ২৫০ জন শিল্পী বেকার হয়ে পড়েছে। অনেকে অভাবে শিল্পীর কাজ ছেড়ে
দিয়ে অটোরিক্সা, ভ্যান চালাচ্ছে।
তিনি
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, বানিজ্যিক
শিল্পীদের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এবং ব্যাঙ্গের ছাতার মত
যেখানে সেখানে গজিয়ে ওঠা ডিজিটাল প্যানা ও পিভিসি ’র ব্যবসা
প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়ম ও নীতির মধ্যে আনা।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ