বুধবার দুপুরে ঢাবির সাংবাদিক সমিতির অফিস রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে মাসুম, তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাসুমের বাম পায়ের গোড়ালিতে টিউমার ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর মাসুমকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ড. আমজাদ হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। আমজাদ হোসেন এটাকে জ্যানথোমা বলে উল্লেখ করেন এবং অপারেশন করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তারই তত্ত্বাবধানে ল্যাবএইডে ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অপারেশন করা হয়।
অপারেশন করার পর বায়োপসি রিপোর্ট দেখে ড. আমজাদ বলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই।’ তিনি পরে যোগাযোগ করার কথা বলেন। রিপোর্টটি তিনি নিজের কাছেই রেখে দেন। পরবর্তীতে যখন মাসুমের অবস্থা আগের থেকে আরো খারাপ হয় তখন তার কাছে গেলে তিনি লবণ ও গরম পানি নিতে বলেন এবং কিছু ওষুধ লিখে দেন। কিন্তু মাসুমের অবস্থা আরো খারাপ হলে ড. আমজাদ পুনরায় তাকে অপারেশন করার পরামর্শ দেন।
পরে মাসুমের পরিবারের সদস্যরা রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের সাবেক ডাক্তার ড. সাজ্জাদ হোসেনকে দেখান। ড. সাজ্জাদ মাসুমের বায়োপসি রিপোর্ট দেখে বলেন, ‘মাসুমের সারকোমা ক্যানসার হয়েছে।’ অথচ ল্যাবএইডের ড. আমজাদ হোসেন রিপোর্ট দেখেই বলেছিলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই।’
পরবর্তীতে মাসুমের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা ড. আমজাদ হোসেনের কাছে গেলে তিনি ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ড. আমজাদের ওপর ভরসা না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মাসুমকে লালমাটিয়ার অনকোলজি সেন্টারে ড. এম কে আনোয়ার হোসেনের কাছে নিয়ে যান। তিনি বায়োপসি রিপোর্ট দেখে এটাকে অ্যালভিওলার র্যা বডোমায়োসারকোমা হিসেবে চিহ্নিত করেন। পরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড মিটিংয়ে মাসুমকে পেটের সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, মাসুমের পা কাটতে হবে। শরীরের অন্য কোথাও আক্রান্ত হলে ক্যামোথেরাপি দিতে হবে।
মাসুমের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ঘটনার দায়ভার হিসেবে ক্ষতিপূরণের জন্য ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণের জন্য গেলে কর্তৃপক্ষ দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং শিক্ষার্থীদের চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে দাঙ্গা পুলিশ দিয়ে হামলা চালায়।
এসময় ল্যাবএইডের কর্তৃপক্ষ ড. মাহবুব হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার কাছের লোক। কাজেই প্রেসার দিয়ে কোনো লাভ হবে না।’
পরবর্তীতে মাসুমের বন্ধুরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলীর কাছে যায়। পরে প্রক্টরকে সঙ্গে নিয়ে ড. আমজাদ হোসেনের কাছে যায়। সেসময় ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার করে।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাসুমকে কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে ডাক্তার মাসুমের সব ডাক্তারি পরীক্ষা করে জানায়, ক্যানসার মাসুমের ফুসফুসসহ শরীরের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। মাসুমের চিকিৎসা পৃথিবীর কোথাও নেই। কলকাতার ডাক্তাররা এ কথাও বলেন যে, ল্যাবএইডের ঐ ঘাতক ডাক্তারের বিরুদ্ধে যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
বর্তমানে মাসুমের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রতিনিয়ত মাসুমের পা থেকে রক্ত ঝরছে। দিন দিন পা ফুলে যাচ্ছে। মাসুমের শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এখন তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ডাক্তারদের মতে, তার বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুমের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো-ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাসুম ও তার পরিবারকে ১ কোটি টাকা দিতে হবে। ভুল চিকিৎসা দেয়ায় ড. আমজাদকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
দাবি মানা নাহলে ৮ সেপ্টেম্বর অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ড. মাহবুব ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারবো না। আপনি ড. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’
এ বিষয়ে ড. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফোনকল রিসিভ করে বলেন, ‘স্যার ব্যস্ত আছেন।’
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আমজাদ আলী ঢাকাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে ল্যাবএইড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তারা প্রথমে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হলেও বর্তমানে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।’
আরো সংবাদ পড়ুন

0 মন্তব্যসমূহ