যশোরের জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিংহঝুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান মিন্টু দাফন শুক্রবার বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে। হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে চৌগাছায় অনিদিষ্টকালের হরতাল চলছে।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ বৃহস্পতিবার এই হরতালের ডাক দেয়। এদিকে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতরা হলেন, চৌগাছার দিঘলসিংহা এলাকার রনি, গরীবপুর গ্রামের বকুল ও পান্নু। তবে হত্যাকান্ডের  ঘটনায় শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
চৌগাছার ইতিহাসে এটিই স্মরণকালের হরতাল। শুক্রবার সকাল থেকে চৌগাছার সকল দোকান-পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। চলেনি কোন যানবাহন। হত্যাকারীদের আটক ও শাস্তির দাবিতে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় ৪/৫টি টেম্পু ভাংচুর করা হয়। আজ (শনিবার) বিকেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভা আহবান করেছে সভাপতি শাহজাহান কবীর। সভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টুর দ্বিতীয় জানাজা সম্পূর্ণ হয় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে। সেখানে তার কফিনে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এরপর নামাজের জানাজা অনুষ্ঠি হয়। জানাজা শেষে তার লাশ গ্রামের চৌগাছায় নিয়ে যাওয়া হয়। দলীয় কার্যালয়ে কফিনে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রহমান জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু হত্যাকা-ের ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো মামলা দায়ের করেনি। তবে হত্যাকা-ে জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে তাদের নিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটকদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এছাড়া চৌগাছায় হরতালের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওসি। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মীর জহুরুল ইসলাম বলেন, দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও জানাজা শেষে তার লাশ চৌগাছার গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়। সিংহঝুলির গরীরপুরের গ্রামের বাড়িতে লাশ ঘুরিয়ে চৌগাছায় জানাজা শেষে তা বিকেলে যশোর কারবালা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন