যশোরে ট্রাক চুরি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন জেলা ছাত্রলীগের নেতারা। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এক সপ্তাহের মধ্যে সংগঠনের একজন যুগ্ম সম্পাদক ও উপসাংস্কৃতিক সম্পাদককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তাৎক্ষণিক নির্দেশে ওই দুই নেতাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। এছাড়া সংগঠনের ইমেজ রক্ষায় ১৬ সেপ্টেম্বর ডাকা হয়েছে বর্ধিত সভা। ২০১১ সালে ৯ জুলাই ১৫ সদস্যের জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটিতে এক ঝাঁক নতুন নেতৃত্ব আসায় ব্যাপক সাড়া পড়ে তৃণমূলে। কিন্তু ছাত্রলীগের গুটিকয়েক নেতার সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকা- সংগঠনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল করিম রহমান ও উপসাংস্কৃতিক সম্পাদক ওমর ফারুক রয়েলের দুটি কর্মকা-ে ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে জেলা ছাত্রলীগ। জানা যায়, ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ১ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ছাত্রলীগ নেতা আহসানুল হক রহমানের নেতৃত্বে শহরের সার্কিট হাউসপাড়ার নুরুল ইসলামের বাড়ির ৯টি জানালা ও ১০টি দরজা খুলে নেয়া হয়। এ দিন দুপুরেই ছাত্রনেতা রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এমনকি তার স্বীকারোক্তিতে পরদিন শহরের লোহাপট্টি থেকে ৩টি দরজা ও একটি জানালা এবং মুড়ালি থেকে সাতটি জানালা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারদিকে ছি ছি রব পড়লে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের নির্দেশে পরদিনই তাকে বহিষ্কার করে জেলা কমিটি। অন্যদিকে ১০ সেপ্টম্বর যশোর আদালত প্রাঙ্গণে আসামিকে মারধর ও অপহরণকালে জেলা ছাত্রলীগের উপসাংস্কৃতিক সম্পাদক ওমর ফারুক রয়েলকে আটক করে শ্রীঘরে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পরদিন ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় রয়েলকে। তবে এ দুটি অপকর্মের কারণে ঢেকে যাওয়া নিকট সময়ের বেশকিছু অপরাধ আবারও আলোচনায় এসেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা ছাত্রলীগের অনেক নেতাই। সোমবারের বর্ধিত সভায় সেসব ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল জানান, সংগঠনের ভেতর শুদ্ধি অভিযান চালানো হবে।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন