কেশবপুরে
পাম চাষীরা ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। চাষীরা তাদের পাম গাছের ফল থেকে তেল
উৎপাদন শুরু করেছেন। জানা গেছে, সবুজ গাছের তরল সোনা এ স্লোগানে আকৃষ্ট হয়ে
উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামের নুরুল ইসলাম, এনামুল হোসেন, চিংড়া গ্রামের
মজিবর রহমান,
মঙ্গলকোর্ট
গ্রামের নফর মোল্যা, নেপাকাটি গ্রামের ইউনুছ আলী ও আব্দুল কাদের সহ এলাকার
কৃষকরা ৪/৫ বছর পূর্বে তারা ১৪/১৫ একর জমিতে পামগাছের চাষ করেন। পরিচর্যার
সঠিক উপায় না জানায় এবং তেল উৎপাদন মেশিন না থাকায় চাষীরা দিশেহহারা হয়ে
পড়েন। এমতবস্থায় তাদের পাশে এসে দাঁড়ান বোটানিকা এগ্রো লিমিটেডের
ব্যবস্থপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান। তার পরামর্শে কৃষকরা পাম গাছের পরিচর্যা
করা ও তা থেকে পরি-পক্ক পাম ফল উৎপাদন করা শেখে।
এ
ব্যাপারে হাবিবুর রহমানের জানান, তিনি সহ এ অঞ্চলের ১১ জন যুবক পাম গাছ
পরিচর্যার জন্য পরিবেশ বান্ধব ভার্মি ক্েম্পাষ্ট কেঁচো সারের সাথে কিছু লতা
গুল্ম গাছের বাকলসহ জৈবিক উপাদান মিশিয়ে পাম অয়েল, সুষম সার, আমদানি করা
হরমন, পাম ট্যাবলেট,পাম মিশ্র পাউডার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করে পাম
গাছের পরিচর্যার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাম ফল থেকে তেল উৎপাদনের জন্য
মেহেরপুর শিল্প নগরীতে স্থাপন হয়েছে মেশিন।
এ
মেশিনে প্রথমে পাকা ফল বাছাইয়ের পর ব্রয়লারের মাধ্যমে জীবানু মুক্ত করে তা
ক্রসিং মেশিন দ্বারা ফলের বাকল ও বিচি আলাদা করে বাকল থেকে খাদ্য তেল,বীজ
থেকে প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল, পাম কর্নেল অয়েল উৎপাদন হয়। বিচি ও বাকল
পাওয়া খৈল পশু খাদ্য বা জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এসব পাম ফলে শতকরা
৩০ ভাগ তেল পাওয়া যাচ্ছে। ভাল জাতের ফল হলে শতকরা ৫০ ভাগ তেল পাওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন পাম অয়েল চাষের সম্ভাবনা, সর্বত্রই পাম গাছের পরিচর্যা ও ফল
সংগ্রহের জন্য তারা বোটানিকা এগ্রো লিমিটেডের নামে জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানী
থেকে রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে
সহযোগীতা পেলে পাম তেল আমদানির পরিবর্তে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা
অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ