বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেছেন আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনা সাকির্ট হাউস ময়দানে বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় দশ লাখ জনগন সরকারকে ‘না’ জানিয়ে দিবে। শনিবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং তিনি এ কথা বলেন। তিনি জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নিমূল করতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্তাবধায়ক সরকার প্রতিষ্টার আন্দোলনে সকল নেতা কর্মীদের ঝপিয়ে পড়ার আহবান  জানান।
তার আগে  দলীয় নেতা কর্মীদের সমাবেশে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম প্রধান মন্ত্রীর পুত্র জয়ের চমক নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের উদগ্রিব হবার কিছু নেই বলে দাবি করেন।
তত্তাবধায়ক সরকার  ব্যবস্থা পুন: প্রতিষ্টা আন্দোলন বেগবান ও সরকার পতনের আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি সফল করতে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা সফল করতে শনিবার সকালে খুলনা জেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের  নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। নগরীর অভিজাত হোটেলে অনুষ্টিত এই সমাবেশের মাঝে দুপুরে প্রেস বিফ্রিং করেন।
বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম বলেছেন, জনতাকে সাথে নিয়ে গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। তিনি সরকারকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি এড়াতে অবিলম্বে তত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান। অন্যথায় অরাজক পরিস্থিতির সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার রাষ্টায়ত্ব চারটি ব্যাংক থেকে ঝণ নিয়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে ফেলেছে। যে কারণে বিশ্বব্যাংক জবাব চেয়েছে। অন্যদিকে দলীয়করণের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে ৪০ হাজার লোক নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন সরকার বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়নের প্রচারনা চালানো হলেও দেশ বর্তমান ভয়াবহ লোডশেঢিং এর কবলে বলে জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পুত্র জয়ের “চমক ’ নিয়ে উদগস্খীব হবার কিছু নাই দাবি করে সকল নেতাদের ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনার জনসভাকে দেশের এ যাবাৎ  মহাসামাবেশ করতে নির্দেশ দেন।  
আগামী জনসভাকে আন্দোলনমুখী উল্লেখ করে তরিকুল ইসলাম বলেন, এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে টানানো ব্যানার, পোষ্টার, প্যানা, বিলবোর্ড ও ফেষ্টুনে শুধুমাত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার এবং তত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন সংক্রান্ত স্লোগান থাকবে। এগুলোতে কোন ভাবেই দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থকের ছবি ব্যবহার করা যাবেনা। এমনকি এ সমাবেশকে ঘিরে নির্বাচনমুখী সকল ধরণের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সমাবেশ সফল করতে পাড়ায়-মহল্লায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে তিনি ১৮ দলীয় জোট নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়, সরকার ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনায় সর্ববৃহৎ সমাবেশ হবে। এতে খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ ১৩ জেলার ১০ লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটানো হবে। এই দশ লাখ লোকই সেদিন বর্তমান সরকারকে “না ” দেখিয়ে দিবে। জনতা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে হত্যা, গুম, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, পদ্মাসেতুসহ সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনের প্রতি অনাস্থা জানাবে।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নূরুল ইসলাম, অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, নগর বিএনপি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ, কেসিসি’র নব-নির্বাচিত মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, অধ্যাপক, এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা প্রমুখ ।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন