এবার ঝিনাইদহে শুরু হয়েছে বিলবোর্ড দখলের প্রতিযোগিতা। বিলবোর্ডের পাশাপাশি দখল করা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। গত এক সপ্তাহ ধরে সরকারী দলের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির নেতারাও ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন মোড়ে থাকা বিলবোর্ড ও দোকানের সাইনবোর্ডগুলো দখল করে নিয়েছেন।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ও ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঝিনাইদহে আসছেন। আর তাই, দুই দলই পাল্লা দিয়ে দখল করছেন এসব বিলবোর্ড। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ে আওয়ামী লীগের নেতারাই সবচেয়ে বেশি বিলবোর্ড দখল করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। 
তবে এতে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, এভাবে বিলবোর্ড দখল করার ফলে তাদের ব্যবসার প্রচারণার ক্ষতি করা হচ্ছে।
আর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই সকল বিলবোর্ড সাঁটানোর ক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। আবার পৌরসভা রহস্যজনক কারণে অনানুমোদিত এ সব বিলবোর্ড আপসারণও হচ্ছে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই বোর্ড দখল করা হয়েছে। শহরের পোষ্ট অফিস মোড়, পায়রা চত্ত্বর, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা, ওয়াজির আলী স্কুল এলাকা, হামদহ, আরাপপুর এলাকায় চলছে এই দখল প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে ওই সকল এলাকার বেশির ভাগ সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড দখর হয়ে গেছে। সেখানে ইতিপূর্বে সাটানো আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র নেতাদের কিছু বোর্ড রয়েছে। আর গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে সরকার দলীয় নেতাদের ব্যক্তিগত পরিচিতির বোর্ড-ব্যানার। শহরের পোষ্ট অফিস মোড়ে বেশি চোখে পড়ছে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেডএম রশিদুল ইসলামের বোর্ড ও ব্যানার। এখানে মৎস্য ও প্রাণী সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল হাই, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কনক কান্তি দাস, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক হারুণ-অর-রশিদ সহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের প্রচারণার বোর্ড ও ব্যানার রয়েছে।

এই স্থানে মোবাইল কোম্পানী ও বাটারফ্লাই এর বেশ কয়েকটি বৃহৎ আকৃতির বিলবোর্ড দখল করে নেওয়া হয়েছে। দখল করা ওই বোর্ডগুলোর উপর ডিজিটাল ব্যানার সাটানো হয়েছে। শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে চোখে পড়ার মতো আছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাস ও পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর বোর্ড। পাশাপাশি রয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান জেডএম রশিদুল ইসলামের বোর্ড ও ব্যানার।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান জানান, দলীয়ভাবে কোন বোর্ড তারা এখনও দেননি। যারা দিয়েছেন তারা ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন। তবে দলের পক্ষ থেকে কিছু বোর্ড দেওয়া হবে।

বিলবোর্ড দখল হওয়া বাটারফ্লাই এর স্থানীয় শো রুমের ব্যবস্থাপক শাহ আলম জানান, তাদের সাথে কথা বলে কেউ এগুলোর উপর ছবি সাঁটাননি। দলীয় নেতারা তাদের ইচ্ছায় করেছেন। আমাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি।

ঝিনাইদহ পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, পৌর এলাকার মধ্যে কেউ কোন বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য বোর্ড দিলে পৌরসভাকে নির্ধারিত ফি দিতে হয়। কিন্তু সরকারী দলের নেতাকর্মীরা ফি দেয়াতো তো দূরের কথা অনুমতিই গ্রহণ করেনি।
তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ দিলে তারা পদক্ষেপ নিবেন।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন