যশোর শহরের অদূরে ১৫ কিলোমিটার দূরে আমবটতলায় নিরিবিলি পরিবেশে ৩৫ একর জমির উপরে প্রকৃতির কোলে
নির্মিত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। পাশ্চাত্য ধাঁচের আধুনিক সব ভবনের ভিতরে
প্রাণোচ্ছ্বাসের কোনো কমতি নেই। ২০০৮ সালে মাত্র ৪টি বিভাগ নিয়ে শুরু
যবিপ্রবির পথচলা।যবিপ্রবির প্রথম উপাচার্য ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে উপাচার্যের দায়িত্বে আছেন ড. আব্দুস সাত্তার, যিনি দ্বিতীয়বারের মতো উপাচার্য নিযুক্ত হয়েছেন।
প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, ফলিত ও খেলাধুলা এই চারটি অনুষদের আওতায় বর্তমানে ১২টি বিভাগে প্রায় ২০০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। প্রকৌশল অনুষদে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স(EEE), কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE), পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (PME), ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (IPE) এবং ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ChE) এই পাঁচটি বিভাগ আছে।
জীববিজ্ঞান অনুষদে ফার্মাসি, মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি (GEBT) এবং ফিসারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (FMB) এই চারটি বিভাগ আছে। ফলিত অনুষদে নিউট্রিশন এন্ড ফুড টেকনোলজি (NFT) ও এনভাইরনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (EST) বিভাগ আছে।
এছাড়াও খেলাধুলা অনুষদে ফিজিক্যাল এডুকেশন এন্ড স্পোর্টস সায়েন্স (PESS) বিভাগ, যা ক্রীড়া বিষয়ে দেশে শুধুমাত্র ও একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রদান করে। এছাড়াও ভবিষ্যতে পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি, নৃবিজ্ঞান ইত্যাদি বিভাগ চালু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্র হল ও একটি ছাত্রী আছে যার প্রত্যেকটিতে প্রায় পাঁচশ করে শিক্ষার্থী থাকবার ব্যবস্থা আছে। ছাত্র হলের নাম শহীদ মসিউর রহমান হল ও ছাত্রী হলের নাম শেখ হাসিনা হল। শহীদ মসিউর রহমান ছিলেন যশোরের কৃতী সন্তান, প্রাক্তন আইনমন্ত্রী, প্রখ্যাত আইনজীবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সৈনিক। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঊষালগ্নে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাত্রে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক শাহাদাত বরণ করেন।
অন্যান্য ভবনগুলোর মধ্যে প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ, একাডেমিক ভবন, উপাচার্যের বাংলো, টিচার্স ডরমেটরি, প্রধান ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
একটি সুদৃশ্য লাইব্রেরি হল যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে প্রায় দশ হাজার বই, জার্নাল ও ম্যাগাজিন আছে। এই ক্যাম্পাসে আছে যশোরের সর্ববৃহৎ শহীদ মিনার। একটি ভাস্কর্যের কাজও চলছে। এছাড়াও একটি ব্যাংক শাখা, একটি পোস্ট অফিস, একটি মেডিকেল সেন্টার ও একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন আছে।
মাত্র পাঁচটি বছর পেরলেও সময়ের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্তির সংখ্যা অনেক বেশি। বিভিন্ন সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গৌরব বয়ে এনেছে। এরই মাঝে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে যার সমাবর্তন বক্তা হিসাবে ছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, জব ফেয়ার ইত্যাদিও হয়ে আসছে।
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সমস্যা, ইন্টারনেট সংযোগ সমস্যাসহ নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্ত্বেও যবিপ্রবি এগিয়ে যাচ্ছে তার আপন মহিমায়, আপন উদ্যমে। হয়তো একদিন দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও সুনাম ও গৌরব অর্জন করবে যশোরের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ।
বিবার্তা
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ