
শারদীয়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
প্রতিমা কারিগরা জানিয়েছেন, এখন প্রতিমার দো-মাটির কাজ করা হচ্ছে। অর্ডার অনুযায়ী সঠিক সময়ে প্রতিমা সরবারহের জন্য তাদের রাত দিন কাজ করতে হচ্ছে।
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি দীপক কুমার রায় বলেন, "প্রতিমা তৈরির কাজটি করে পাল সম্প্রদায়ের মানুষ। যে কেউ ইচ্ছে করলেই প্রতিমা তৈরি করতে পারে না। এটি একটি শিল্প। এই শিল্পটি বরাবরই বাণিজ্যিকভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। অতীতেও দেখা গেছে ধনাঢ্য ব্যাক্তিদের বাড়িতে গিয়ে ভাস্কর শিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা পরিবর্তন হয়েছে। ভাস্কর শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়ে কাজ করছেন। পূজার আগে তারা প্রতিমাগুলো তুলে দেন।"
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন বলেন, "এ বছর ঠিক কতটি মন্ডপে পূজা হবে সেটা এখনো নিশ্চত হওয়া যায়নি। তবে গত বছর ৬২৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও এর সংখ্যার খুব বেশি হেরফের হবে না।"
জেলার ৮ উপজেলার ৬ শতাধিক মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। প্রতিবছরের মতো এবার প্রতিমার দাম বেড়েছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ভাস্কর শিল্পীদের দাবি খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকবে না।
যশোর শহরের বকচর এলাকার শ্রী গোবিন্দ প্রতিমালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী গোপাল পাল জানান, এবছর ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় প্রতিমা বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে প্রতীমার দামও।
তিনি আরো জানান, ১৫ বছর ধরে তিনি এই পেশায় আছেন। গত ৫ বছর নিজে আরো ৪জনকে সাথে নিয়ে কাজ করছেন। এবার তিনি ২০টি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে।
শুধু গোপাল পাল নয় তার মতো ভাস্কর শিল্পীরা যথাসময়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে রাত দিন কাজ করে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ