মিশরের প্রধান রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছেন দেশটির আদালত। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি সমর্থিত এই দলটির সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। আলজাজিরা জানায়, সোমবার মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই ঘোষণা দেয়া হয়।  
প্রেসিডেন্ট মুরসির পুর্নবহালের দাবিতে চলা বিক্ষোভে প্রায় এক হাজার ৪০০ ব্রাদারহুড সমর্থক নিহত হওয়ার এক মাসের বেশি সময়ের পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয়া হলো।  
আদালতের রায়ে ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সমাজকল্যাণমূলক সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্রাদারহুড সমর্থিত সব ধরনের সভা, বিক্ষোভ-সমাবেশ এখন থেকে নিষিদ্ধ।
এর আগে বেলতাগি, বাদাবি, জেহাদ আল হাদ্দাদসহ ব্রাদারহুডের শীর্ষ ১০ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।   
মুসলিম ব্রাদারহুড মূলত তিনটি পরিচয়ে তাদের রাজনৈতিক কাজ করে থাকে। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করা রাজনৈতিকদল ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টি, এনজিও, এবং স্বয়ং মুসলিম ব্রাদারহুড এই তিনটি পরিচয়ের মাধ্যমে দলটি কাজ করে থাকে।
ব্রাদারহুডের সাংগঠনিক কাঠামোকে বলা হয় ‘তানজিম’। কোনো আইনি স্বীকৃতি না থাকলেও সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের শাসনামলসহ কয়েকদশক ধরে তানজিম ব্রাদারহুডের সাংগঠনিক কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে তানজিমের কোনো স্বীকৃতি না থাকলেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব খুবই ব্যাপক।  
এরআগে ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা চালায় মিশরের বর্তমান সেনা সমর্থিত অন্তবর্তী সরকার। তবে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত সেই রায় মুলতুবি রেখেছেন আদালত।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন