মানব পাচার প্রতিরোধে দেশে প্রণয়ন করা হয়েছে মানব পাচার প্রতিরোধ আইন-২০১২। কিন্তু পাচার রোধ হচ্ছে না। বরং দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পাচারের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলছে। পাচার রোধে বা পাচার নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেই।
নেই ব্যাপক কর্মসূচি ।
বাংলাদেশ থেকে নারী ও শিশু পাচার ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। দেশ থেকে প্রতিবছর তিন লক্ষাধিক নারী ও শিশু পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ সকল নারী ও শিশুর বেশীর ভাগ পাশ্ববর্তী ভারত, পাকিস্থান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার হচ্ছে। এ নারী ও শিশুদের অধিকাংশ বিভিন্ন দেশের যৌনপল্লী গুলোতে যৌনকর্মে নিযুক্ত রয়েছে। এদের মধ্যে ভারতের মুম্বাই, দিল্লি ও কলকাতা এবং পাকিস্তানের করাচীতে আড়াই লক্ষাধিক যৌন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। এ সকল যৌনপল্লীতে চরম দূর্দশার মধ্যে তারা কাজ করছে। সংঘবদ্ধ পাচারকারীরা খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে এদেরকে পাচার করছে। যে কারনে দেশ থেকে নারী ও শিশু পাচারের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ন হিসাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল চিহ্নিত হচ্ছে।
তার পরও বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলের শিশুশ্রম পাচারের ঝুঁকি এবং শোষণ কমানো, শিশু পাচার, নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা, শিশু ও নারী পাচার প্রতিরোধে সব পর্যায়ের সহযোগী সংগঠন ও ব্যক্তির সঙ্গে নেটওয়ার্কিং ও সমন্বয় বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমমনা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পাচারকৃতদের উদ্ধার, তাদের পরিবারে ও সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পুনর্বাসন করা, পাচার ও শোষণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের রক্ষাকল্পে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংগঠন 'ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ'। চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট নামে কার্যক্রম চালাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। খুলনার বয়রা ও যশোরে এর কার্যালয় রয়েছে। চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্টের কার্যক্রমের মতো অন্যান্য বেসরকারি সংগঠনও এগিয়ে এলে বা সরকারিভাবে এ ধরনের কার্যক্রম হাতে নিলে মানব পাচার রোধ করা সম্ভব হতে পারে।
 দেশ থেকে নারী ও শিশু পাচার রোধে সরকারের মানব পাচার ও প্রতিরোধ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও পাচারকারীদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহন করা জরুরী। এছাড়া এ বিষয়ে গনসচেতনতা সৃষ্টিতে মিডিয়া ও গনমাধ্যমের সাংবাদিকদের অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে।  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে প্রাকৃতিক দূর্যোগ, দারিদ্রতা, বেকারত্ব, শিক্ষা ও অসচেতনতার অভাব, শিশু ও নারীর প্রতি নির্যাতন ও বৈষম্য, বাল্য বিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক প্রথা ও তালাকের প্রভাব, উন্নত জীবনের হাতছানি, আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঠিক কার্যকারীতার অভাব, সীমান্ত পারাপারের অবাধ ও সহজ সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপত্তার অভাব, দেশে ও বিদেশে যৌন ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার ও অধিক জনসংখ্যার কারনে দেশ থেকে নারী ও শিশু পাচার বাড়ছে। পাচার প্রতিরোধে ওয়ার্ল্ড ভিশন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বরিশাল, মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলার ২৪ উপজেলায় সচেতনতামূলক ও পূর্নবাসনে কাজ শুরু করেছেন। অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, শিক্ষার অভাব, অসচেতনতা, দ্রুত নগরায়ণ, অভিবাসন, যৌন ব্যবসার দ্রুত প্রসার, অধিক মাত্রায় ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি এশিয়াকে শিশু ও নারী পাচারের জন্য পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে। বাংলাদেশ এর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু ও নারী দেশের মধ্যে ও বাইরে পাচারের শিকার হচ্ছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু ও নারী ভারত ও অন্য দেশে পাচার হয় এবং এদের মধ্যে অনেককে বাধ্যতামূলক যৌনকাজ, ভিক্ষাবৃত্তি, চোরাচালান, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি, কলকারখানায় ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম, পর্নোগ্রাফি, রক্ষিতা, বাধ্যতামূলক শ্রম ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা হয়। 'প্রত্যেক শিশুর জন্য' এ প্রত্যয় ওয়ার্ল্ড ভিশন শিশুর কল্যাণ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সব শিশু ও তার পরিবার, বিশেষ করে পাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও তার পরিবারকে সুরক্ষা ও পাচার থেকে রক্ষা পাওয়া শিশু ও নারীদের সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সেই সঙ্গে শিশু পাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে বৃহত্তর খুলনা এলাকায় 'ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ' এর একটি বিশেষ উদ্যোগ হলো চাইল্ড সেফটি নেট প্রজেক্ট।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন