বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া খুলনা সফরের
প্রথমদিনে গতকাল শনিবার রাতে যশোর পৌঁছেছেন। এখানে রাতযাপন শেষে আজ রোববার
সকাল ১১টায় তিনি খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে বিকেলে খুলনা সার্কিট
হাউজ ময়দানে ১৮ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি।
নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি সংবিধানে পুনঃস্থাপনের দাবিতে জনমত গঠনের অংশ হিসেবে
এই মাসের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভায় করছেন খালেদা জিয়া। ১৮
দলীয় জোটের কর্মসূচি হিসেবে খুলনার জনসভাটি চতুর্থ। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর
নরসিংদী, ১৫ সেপ্টেম্বর রংপুর এবং ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে জনসভা করেন
বিএনপি চেয়ারপার্সন।এদিকে, খালেদা জিয়া রাজধানী ঢাকা থেকে যশোর আসার পথে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের নেতাকর্মীরা ব্যাপক শোডাউন করেন। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে পথে পথে দলের নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতার ঢল নামে। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে দেয়া হয় ব্যাপক সংবর্ধনা। রাস্তার দু’পাশে ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ড ও তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে শতাধিক। হাজার হাজার নেতাকর্মী নেত্রীকে ফুল ছিটিয়ে ও সারি বেঁধে স্বাগত জানায়। এ সময় খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি নিয়ে জেলায় জেলায় ছুটে বেড়াচ্ছেন খালেদা জিয়া। সেই লক্ষ্য নিয়েই চুড়ান্ত আন্দোলনের আগে বিভাগীয় পর্যায়ে জনসভা করছেন খালেদা জিয়া।
রাজধানীর গুলশানের বাস ভবন থেকে গতকাল শনিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে যাত্রা শুরু করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। গাড়ি বহর গুলশান থেকে গাবতলী, আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, সাভার, নবী নগর, ধামরাই, মানিকগঞ্জ হয়ে পাটুরিয়া দিয়ে তিনি ফেরি পার হন। খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্বাগত জানাতে নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে। নানা রঙের ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুন, ধানের শীষ হাতে নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেয়।
গুলশানের বাসা থেকে যশোরের পথে শ্যামলীতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গাবতলীতে এস এ খালেক, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আমিনবাজার-হেমায়েতপুরে দলের যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, সাভারে ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গেইটে জাতীয়তাবাদী দল সমর্থিত শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ ও ছাত্রদল, সাভার স্মৃতিসৌধের সামনে স্থানীয় বিএনপি নেতা মেজর অব. মিজানুর রহমান, ধামরাইয়ে দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য তমিজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ, মানিকগঞ্জ থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রীতা, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ কবির জিন্নাহ, বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার হোসেনের ছেলে অ্যাড. খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মইনুল ইসলাম শান্ত, মাকসুদর রহমান, অ্যাড. জামিলুর রশীদ, মোহব্বত হোসেন, মোতালেব হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক তোজাম্মেল হোসেন তোজার নেতৃত্বে সহস্রাধিক নেতাকর্মী রাত পৌনে ৮টার দিকে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান। পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর পৌঁছলে সেখানে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অভ্যর্থনা জানিয়ে ফেরিতে তুলে দেয়। এ সময় ফেরিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এছাড়াও ফেরিতে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বিপুল সংবর্ধনা জানায়। ফেরি পার হয়ে রাজবাড়ির গোয়ালন্দ মোড়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ খৈয়াম, নাসিরুল হক সাবু, ফরিদপুরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ, মাগুরায় প্রশিণ বিষয়ক সম্পাদক কবির মুরাদ, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, কাজী সলিমুল হক কামাল, যশোরের খাজুরায় টিএস আইয়ূব এর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে ফুল ছিটিয়ে তাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। রাতে যশোর সার্কিট হাউজে পৌঁছলে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারন সম্পাদক অ্যাড. সাবেরুল হক সাবুসহ দলের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ। রাতে যশোর সার্কিট হাউজেই অবস্থান করেন তিনি। এখান থেকে খুলনার জনসভায় বক্তব্য দেয়ার জন্য আজ সকালে তিনি রওনা দেবেন। জনসভায় বক্তব্য শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ