এখন সে
কারাগারে। সমপ্রতি নিখোঁজ স্ত্রীর মুখোশ খুলে পড়ায় শরীফ নামে প্রতারিত এক
ব্যক্তি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে বীথির পরিচয় ও তার প্রতারণার
ফিরিস্তি দিয়েছে। এর আগে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই বীথির
বিরুদ্ধে তিনি আদালতে মামলা করেছেন। মামলার বিবরণীতে জানান, বীথির আসল নাম
সাদিয়া হাসান ওরফে মিতুল। কখনও মিতু, কখনও সাদিয়া আবার কখনও বীথি নামে
পরিচয় দিতো। তার বাড়ি সাভারের জালেশ্বর এলাকার আঙ্গিনা আবাসিক এলাকার ৬২/বি
নম্বর। পিতার নাম আবুল বাশার, মাতা মমতাজ ওরফে জুনু। বীথির জন্মের পর
থেকেই তারা আলাদা থাকেন। বিয়ে করেছেন একাধিক। বীথির পিতা করেছেন ৫ বিয়ে,
মাতা করেছেন ৩ বিয়ে। শরীফ জানান, ২০০৪ সালের ১৭ই জুলাই দক্ষিণ কোরিয়া
চাকরিকালীন টেলিফোনের মাধ্যমে বীথিকে বিয়ে করি। এর এক বছর পর ২০০৫ সালে
বাংলাদেশে চলে আসি। কিছুদিন পর ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২০০ লোককে দাওয়াত করে
প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বীথিকে ঘরে তুলে আনি। এরপরই
শ্বশুর-শাশুড়ির বহুবিবাহের নানা কাহিনী জানতে পারি। তাদের অসামাজিক
কর্মকাণ্ডে লজ্জা পেয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিই। স্ত্রী বীথিও যেতে চাইতো না।
তবে শ্বশুর আবুল বাশার তার নতুন স্ত্রীকে নিয়ে আমার বাসাতেই থাকতো। তার
প্ররোচণাতেই রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ‘ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন’ নামে
প্রিন্টিং কারখানা গড়ে তুলি। ফ্যাক্টরি চালু হওয়ার পর শ্বশুর দ্বিতীয়
স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তৃতীয় স্ত্রীকে ঘরে তোলে। অন্যদিকে শাশুড়ি সাভারের নিজ
বাড়িতে নতুন প্রেমিককে বিয়ে করেন। তখন থেকেই সাভারের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে
যোগাযোগ বন্ধ করে দিই। মামলার বিবরণীতে শরীফ আরও উল্লেখ করেন, আমার স্ত্রী
বীথি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তাই কখনও বাবা-মায়ের কাছে যেতে বাধা
দিইনি। তার ইচ্ছা-সাধ কোনটাই অপূর্ণ রাখিনি। যখন যেখানে যেতে চাইতো,
সেখানেই যেতে দিয়েছি। মায়ের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসার বাইরে রাত
কাটাতো। বরিশাল ও দেশের বাইরে ভারতে ঘুরতে গিয়েছে। তাতেও বাধা দিইনি। পরে
জানতে পেরেছি, বীথির বয়ফ্রেন্ড আছে। তার নাম কামাল। জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার সঙ্গেই বীথি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে
বেড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, কামাল একাধিকবার আমার বাসায় এসে রাত কাটিয়েছে। তখন
কামালকে ফুপাতো ভাই বলে পরিচয় দিতো। সঙ্গে একজন তরুণীকে নিয়ে আসতো। তাকে
নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতো। শরীফ বলেন, শ্বশুরবাড়ির কুটুম
স্ত্রী নিয়ে আমার বাসায় বেড়াতে আসার কারণে তাদের কখনওই সন্দেহের চোখে
দেখিনি। পরে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে গিয়ে ডিভোর্স লেটার
পাঠানোর পর বুঝতে পারলাম সেই কামালই তার প্রেমিক। পরে তাকে বিয়ে করেছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, বীথি মূলত
ম্যারেজ মিডিয়া নামে প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সদস্য। বিয়ের নামে
প্রতারণা করাই তার পেশা। ছোটবেলা থেকেই অসামাজিক পরিবেশে বড় হয়েছে। চোখের
সামনেই দেখেছে বাবা-মায়ের অনৈতিক কর্মকাণ্ড। সেই থেকেই অপরাধ জগতে পা
বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, বীথির বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলার তদন্ত শুরু
হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের কাছে শরীফ জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
৩২তম ব্যাচের একটি অনুষ্ঠানের কথা বলে কামাল আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা
নেয়। স্ত্রী-সহ দাওয়াত করে। পরে গাড়ি নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকেই
আমার স্ত্রী আলাদা থাকতে শুরু করে। আম্মুর বাসার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ
বিল দেয়ার অজুহাত দেখিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতো। এর কয়েক দিন পর
বীথির পিতা নিট গার্মেন্ট কারখানা দেয়ার কথা বলে চার লাখ টাকা নেয়। একই
সঙ্গে ওই কারখানার কাগজপত্র তৈরি করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ট ব্যাংক থেকে
৩০ লাখ টাকা তোলে। সিটি ব্যাংকের একটি কার্ডের মাধ্যমে ৬৫ হাজার টাকা তুলে
আত্মসাৎ করে তারা। এছাড়া আমার দুই ভাবীকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কয়েক দফায়
১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বীথি। কামাল আক্ষেপ করে বলেন, বীথির পেছনে আমার
কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ওর নামে প্লট কিনে দিয়েছি। সেই স্ত্রী আমার জীবন নিয়ে
ছিনিমিনি খেলেছে। এ প্রতারণার বিচার চাই।
আরো সংবাদ পড়ুন

0 মন্তব্যসমূহ