
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দেশটির ইসলামি সংঠনগুলোর কড়া প্রতিবাদ সত্ত্বেও সুন্দরী প্রতিযোগিতা ঠেকানো গেল না। ইসলামি সংগঠনগুলো বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতাকে পর্নো, নগ্ন ও অশ্লীলতার প্রদর্শনী বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু প্রতিবাদ
হিসেবে
দেশটির একটি সংগঠন পাল্টা সুন্দরী প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে। তবে সেটি হল
ইসলামি সুন্দরী প্রতিযোগিতা। মিস ওয়ার্ল্ডের পাল্টা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে
তাই ‘দি মুসলিমাহ ওয়ার্ল্ড’ এর আবির্ভাব হল মুসলিম বিশ্বে। গেল সপ্তাহের
বুধবার দেশটির রাজধানী জাকার্তায় মুসলিম বিশ্বের সুন্দরী নারীদের নিয়ে
হয়ে গেল এমনই এক সুন্দরী প্রতিযোগিতা।
একা
শান্তি নামে এক মুসলিম নারীর প্রচেষ্টায় দি মুসলিমাহ ওয়ার্ল্ডের সূচনা।
শান্তি জানান, এই এ প্রতিযোগিতা শুধু মুসলমানদের জন্যই সংরক্ষিত ছিল।
বার্তা
সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে শান্তি বলেন, “মুসলিমাহ ওয়ার্ল্ড
একটি সুন্দরী উৎসব। তবে তাতে মিস ওয়ার্ল্ড থেকে এর চাহিদা ও শর্তগুলো
একেবারেই আলাদা। প্রথমত তো আপনাকে মুসলিম ধার্মিক হতে হবে। আপনাকে একজন
ইতিবাচক রোল মডেল হতে হবে। এবং আপনাকে দেখাতে হবে, কিভাবে আপনি আপনার জীবনে
বর্তমান আধুনিকায়িত বিশ্বে স্পরিচুয়ালিটি বা পরমার্থ ও আধ্যাত্মিকতার
চর্চার ভারসাম্য রক্ষা করেন।”
শান্তি
জানান, দি মুসলিমাহ ওয়ার্ল্ডে ৫শ জনের মধ্যে বাছাই করে ২০ জন মুসলিমাহকে
চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে। তারা সবাই অনলাইনের বাছাই পর্বে অংশ
নিয়েছিল।
অনুষ্ঠানটি
শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। এই তেলাওয়াতে সব
প্রতিযোগীকেই অংশ নিতে হয়। এখানে অংশগ্রহণকারী সব প্রতিযোগীকে অবশ্যই
হিজাব পরে আসতে হয়।
ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও ব্রুনাই থেকে আসা মুসলিম তরুণীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
শান্তি
জানান, ফিনাল সেশনে ওঠা প্রতিযোগীরা ফ্যাশনেবল পোশাক পরবে। তবে সেটি অবশ্যই
ইসলামিক হতে হবে। তবে তাদের এতে করে চুল দেখানেরা সুযোগ নাই। কিন্তু
সুন্দর গ্রীবা দেখানোর ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যায়।
মিস
ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা বাতিলের আহবানে সমর্থন জানাননি বলে এএফপিকে জানান
শান্তি। শান্তি মনে করেন, এতে করে ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় বৈচিত্র্য ক্ষুণ্ন
হয়ে যেতে পারে। কারণ ইন্দোনেশিয়া একটি ধর্মীয় বৈচিত্র্যের দেশ।
শান্তি
বলেন, “আমরা শুধু মিস ওয়ার্ল্ডকে “না” বলতেই চাই না, বরং আমরা দেখাবো যে,
আমাদের শিশুদের পছন্দ আছে। আপনি কি মিস ওয়ার্ল্ডের নারীর মত হতে চান” নাকি
দি মুসলিমাহ ওয়ার্ল্ডের একজন নারীর মত হতে চান?”
উল্লেখ্য,
ইসলামি সংগঠনগুলোর ক্রমাগত প্রতিবাদের মুখে দেশটির সরকার মিস ওয়ার্ল্ডের
ফিনাল সেশন বালিতে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বালির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ
হিন্দু। যারা সাধারণত বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ
করেন না।
সূত্র: আল আরাবিয়্যাহ
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ