মহিলার নাম বিথী। দুই সন্তানের জননী। বাড়ি শহরতলীর বিরামপুর গ্রামে। যশোর শহরের ব্যস্ততম সড়কে প্রায় দেখা যায় ইজিবাইক চালাতে। পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা গেছে। তারপর সন্তান এবং তার নিজের জীবন-জীবিকা নিয়ে বিথী পড়ে গেলেন মহা সংকটে।

দাড়ানোর কোন স্থান পেলেন না। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবন বাচাঁতে কি করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন কারো কাছে হাত পাতা নয়। নিজের হাতে কাজ করে সন্তানদের মানুষ করতে হবে। তাই জীবিকার তাগিদে নরম হাতে ইজিবাইকের হ্যান্ডেল চেপে ধরলেন। ইজিবাইকে মানুষ বহনে বিথীর ছুটে চলা শুরু হলো, শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য পান্তে। এভাবেই তার জীবিকা নির্বাহ অব্যহত রয়েছে। চলছে নিজের এবং দু সন্তানের ভরণ পোষণ।

ইজিবাইক চালায় পুরুষরা। তার মধ্যে মহিলা হয়ে এই কাজ করতে প্রথমে কিছুটা কঠিন হলেও পরে তা মানিয়ে গেছে। তার গাড়িতে চড়লে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন মহিলা যাত্রীরা। তাই যাত্রীর অভাব হয়না তার। বিথীর মত অবস্থায় পতিত হয়ে অসংখ্য নারীকে জীবন বাচাঁনোর সহজ এবং ভিন্ন অবৈধ কোন পথ অবলম্বন করতে দেখা যায় হর-হামেশায়। কিন্তু অবৈধ সেই সমস্ত পথে পা না বাড়িয়ে, বিথী বেছে নিয়েছেন বৈধ উপায়ে হালাল উপার্জনের মাধ্যম। যা বর্তমান সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করেন অনেকে। বিথীকে দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারেন, তার মত অসহায় নারীরা। কেউ বা ত্যাগ করতে পারেন অন্ধকার জীবন।

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন