বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে 'কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর আত্মবিধ্বংসী সিদ্ধান্ত' উল্লেখ করে তেল-গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মোহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, সুন্দরবনের পাশে এই তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুন্দরবন অবধারিতভাবে মরে যাবে। এদেশের মানুষ কোনোভাবেই এটি মেনে নেবে না। রামপালের এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের জন্য দল মত নির্বিশেষে গণমানুষের দাবি উঠেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলসহ সাত দফা দাবিতে চার দিনব্যাপী সুন্দরবন অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির শেষ দিনে শনিবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের পুরাতন কোর্ট চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে বলেন, ''বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও বিশ্লেষণ উপেক্ষা করে তিনি এই কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সুন্দরবন ধ্বংস হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি একজন অপরাধী সাবেক আমলা। তার জেলে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি দেশের মন্ত্রী মর্যাদায় থেকে দেশের মানুষের সঙ্গে মিথ্যাচার করে জাতীর অপূরণীয় ক্ষতি করছেন।''

জাতীয় কমিটির বাগেরহাট শাখার আহ্বায়ক রণজিৎ চট্টপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এবং সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বক্তব্য দেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার বক্তৃতায় বলেন, ''বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণায় সুন্দরবনের ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা সরকার অস্বীকার করতে পারেনি। কারণ তা বিজ্ঞানসম্মত, যুক্তিযুক্ত। তাই সরকার মিথ্যা প্রেসনোট দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।''

এই লংমার্চ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ''এটা জাতীয় প্রতিরোধের লংমার্চ। আমরা যেকোনো মূল্যে সুন্দরবন রক্ষা করব।''

এর আগে বেলা পৌনে একটায় খুলনা থেকে আসা লংমার্চের বহর বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ট্রাফিক মোড়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে লং মার্চের প্রায় চার হাজার কর্মী বৃষ্টি উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে বাগেরহাট শহরে প্রবেশ করে। খুলনা থেকে বাগেরহাটে আসার পথে খুলনা-বাগেরহাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষ সমবেত হয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানায়। বিকেল তিনটায় লংমার্চের র্যা লি শহরের রেলরোড থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন মংলার দিগরাজের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।

তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা লংমার্চে বাধা দিতে বিভিন্ন স্থানে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী দাউদ হোসেন এ ধরনের কোনো সংবাদের সত্যতা নেই জানিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ শেষ করতে পুলিশের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন