শাহনেওয়াজ খান সুমন, ঝিনাইদহ
চার মাস পূর্ব থেকেই স্কুলের চার কক্ষের একমাত্র ভবনটি রয়েছে পরিত্যক্ত ঘোষিত। আর স্কুলের মাঠে জমে আছে পানি-কাঁদা। ক্লাস নেওয়ার কোন জায়গা না পেয়ে শিক্ষকরা মাঝে মধ্যে ক্লাস নেন পাশ্ববর্তী রাস্তার উপর। এখন পরীক্ষার কারনে অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের বসিয়েছেন পরিত্যক্ত ওই স্কুল ভবনের বারান্দায়। এই অবস্থা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাগুটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
শিক্ষকরা জানান, তাদের ক্লাস নেওয়ার কোন জায়গা নেই। কবে তাদের স্কুলে ভবন হবে তাও কেউ বলতে পারেন না। শুধু শুনছেন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন হয়ে আসলে কাজ শুরু হবে। তাদের বক্তব্য এই দীর্ঘ সময় কি পাঠদান বন্ধ থাকবে। বিকল্প কোন ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
২৬ আগষ্ট সরেজমিনে স্কুলটিতে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুরা বারান্দায় বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। ইসলাম শিক্ষা পরীক্ষা নিচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, ভবনটি ভেঙ্গে পড়ার ভয়ে ভিতরে বসতে পারেন না। বাইরে সারাক্ষন পানি-কাঁদা জমে থাকে। ক্লাস নেন পাশ্ববর্তী রাস্তায়। কিন্তু পরীক্ষা সেখানে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় পরীক্ষা নিচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেকসনা খাতুন জানান, এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী এলাকার শিশু-কিশোরদের পড়ালেখার কথা চিন্তা করে ১৯৭১ সালে বাগুটিয়া গ্রামে ৩৩ শতক জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। সেই থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার শিশুদের শিক্ষার আলো দিয়ে আসছে। বর্তমানে ১৭৪ জন শিক্ষ পড়ালেখা করছে। ৪ জন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করছেন। প্রধান শিক্ষক জানান, প্রথম দিকে চাটাই-আর টিন দিয়ে ক্লাস রুম বানানো হলেও ১৯৮০ সালের দিকে সেমিপাঁকা ঘর নির্মান করেন এলাকার মানুষ। পরে ১৯৯৪ সালে এলজিইডি চার রুমের একটি পাঁকা ভবন নির্মান করে দেন। সেখানে শিক্ষকরা বসতেন এক রুমে আর তিনটি রুমে ক্লাস নেওয়া হতো। এভাবে দীর্ঘদিন চলে আসছিল। তিনি জানান, মাঝে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ছাদের সিমেন্ট-বালি খুলে খুলে পড়তে থাকে। এই অবস্থায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করানো হয়। প্রধান শিক্ষিকা রেকসনা খাতুন আরো জানান, গত ৬ মে ঝিনাইদহ এলজিইডি থেকে একজন প্রকৌশলী এসে ভবনটি নানা ভাবে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে পরিত্যক্ত ঘোষনা করেন। বাদশা মিয়া নামের ওই প্রকৌশলী তাদের ভবনটি ব্যবহার না করার জন্য বলে যান। ক্লাস বাইরে নেবার পরামর্শ দেন ওই কর্মকর্তা। সেই থেকে তারা বাইরে ক্লাস নিচ্ছেন। প্রধান শিক্ষিকা জানান, বাইরে স্কুলের যে মাঠ আছে সেখানে সারাক্ষন পানি-কাঁদা থাকায় রাস্তার উপর ক্লাস নিতে হয় তাদের। তিনি জানান, স্কুলে ক্লাস রুমের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। 
রেকসনা খাতুন জানান, নতুন ভবনের জন্য তারা জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন সুরহা হয়নি। দ্রুত ভবন না হলে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবার সম্ভবনা রয়েছে বলে শিক্ষকরা দাবি করেন। এলজিইডি’র ঝিনাইদহ সদর অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাদশা মিয়া জানান, তিনি ভবনটি পরীক্ষা করে যা পেয়েছেন তাতে যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে। যে কারনে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন। ওই ভবনের ভিতর-বারান্দা কোথাও বসা নিরাপদ না। নতুন ভবন নির্মানের বিষয়ে তিনি জানান, প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। আশা করছেন দ্রুত অনুমোদন হয়ে আসবেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা প্রবীর কাঞ্জিলাল জানান, তারা চেষ্টা করছেন সল্প সময়ের জন্য বিকল্প কিছু করার।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি তারা অবগত। শিক্ষকরা কষ্ট করে এখানে-সেখানে ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন। তারা চেষ্টা করছেন দ্রুত ওই স্থানে একটি নতুন ভবন নির্মাণের। সে জন্য তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আশা করছেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।    



     

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন