কার্টুনে প্রদর্শিত নানা দৃশ্য অনুকরণ করতো ১১ বছর বয়সী তন্ময় বিশ্বাস। ছেলেকে টিভি দেখতে দিয়ে বাবা বাইরে গিয়েছিলেন৷ কার্টুনের চরিত্রের অনুকরণে গলায় গামছা জড়িয়ে হয়তো আকাশে উড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ঘরের বাঁশের বেড়ার সাথে আটকে তার দেহ ঝুলে পড়ে। কিছুক্ষণ পর বাবা বাড়ি ফিরে ছেলের দেহ ঝুলতে দেখেন, কিশোর তন্ময়কে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি৷ ঘটনার সময় তন্ময়ের দাদা অমূল্য বিশ্বাস পাশের ঘরেই ছিলেন৷
এ ঘটনায় তার পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তন্ময়ের কার্টুন দেখার নেশা এবং অনুকরণ এই মৃত্যুর কারণ৷
নদিয়া পুলিশের ডিএসপি দিব্যজ্যোতি দাস বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঝুলন্ত দেহটি উদ্ধার করার সময়ও ঘরের টিভিতে কার্টুন চ্যানেল চলছিল৷ ওর পরিবারও জানিয়েছে, কার্টুনের দৃশ্যের অনুকরণ করা ছিল ওর নেশার মতো৷ ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷'
তন্ময়ের চাচা বাবলু বিশ্বাস বলেন, "তন্ময় খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল৷ কোনদিন স্কুল কামাই করত না৷ কিন্ত ও ছিল টিভির পোকা, সারাদিন শুধু কার্টুন দেখতো৷ ডোরেমন, ছোটা ভীম, অথবা টম অ্যান্ড জেরি দেখতে দেখতে অনুকরণ করারও চেষ্টা করত৷"
কার্টুন দেখার প্রবণতা শিশু-কিশোরদের সব সময়ই একটু বেশী। কার্টুন দেখার পাশাপাশি সেইসব ভঙ্গিমা অনুকরণ করাও নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যেও একই অভ্যাস দেখা যায়। কার্টুনের কোন চরিত্রের মাঝে নিজেকে বসিয়ে প্রায়ই কাজটি করে শিশুরা।
মনোবিজ্ঞানিরা মনে করেন, এই ধরণের ঘটনা থেকে শিশুদের রক্ষা করতে প্রয়োজন পারিবারিক শৃঙ্খলা এবং নিয়ন্ত্রণ। খুব স্বাভাবিকভাবে শিশু বুঝাতে হবে কার্টুন শুধুই বিনোদন, বাস্তব জীবন-ঘটনার সাথে এর কোন সর্ম্পক নেই।
আরো সংবাদ পড়ুন

0 মন্তব্যসমূহ