সাপে কামড়ালে একমাত্র ভরসা ওঝাঁ, চিকিৎসাসেবা নেই নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওঝাঁ একমাত্র ভরসা। ভুক্তভোগী পৌর এলাকার পারছাতরা
গ্রামের বাসিন্দা সেনা সদস্য ওসমান শেখ জানান, তার মেয়ে মারিয়াকে (৬) সাপে
কামড়ায়। গত ২৮ জুলাই রাত নয়টার দিকে তাদের বসতঘর থেকে পায়ে সাপে কামড় দেয়।
প্রথমে ওঝা দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে লোহাগড়া
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে
যশোর সিএমএইচে নেয়ার পথে কামড়ানোর ১৯ ঘন্টা পর পরদিন ২৯ জুলাই ভোরে তার
মৃত্যু হয়। ওসমান শেখ বলেন, 'লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও নড়াইল
সদর হাসপাতালে নেয়া পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন এখানে সাপে কাটার কোন ওষুধ
নেই। কোন কোনো চিকিৎসা নেই।' সাপে কামড়ানোর পর গত ৩১ জুলাই একইভাবে
বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন পারমলি্লকপুর গ্রামের সোহরাব শিকদারের স্ত্রী
জাহানারা বেগম (৫৫)। মারিয়া ও জাহানারা বেগমের মত এ বর্ষা মৌসুমে চিকিৎসার
অভাবে বেশ কয়েকজন সাপে কাটা রোগী মারা গেছেন। লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য
কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, 'সাপে কামড়ের চিকিৎসার চর্চা
সচরাচার নেই। সেজন্য এ বিষয়ে চিকিৎসকদের জ্ঞানও কম। এছাড়া সাপে কাটা রোগীর
জীবন রক্ষাকারী একমাত্র প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনমও উপজেলা হাসপাতালে নেই।
তাই এখানে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়।'নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সামাদ এ প্রতিবেদককে বলেন, 'কাছেধারের মধ্যে খুলনা ও ফরিদপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ চিকিৎসা পাওয়া যাবে। ওখানে প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম ওষুধ আছে। বিষধর সাপের বিষের প্রকৃতি নির্বাচন করে এ প্রতিষেধক রোগীর শরীরে প্রয়োগ করতে হয়। না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। সেটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্ভব।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ