নড়াইল সদর উপজেলার কুরুলিয়া গ্রাম হতে চন্ডিবরপুর পর্যন্ত মাত্র ৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ৮গ্রামবাসীর চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে হয়ে দাড়িয়েছে। পাকাকরণের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কোন লাভ হয়নি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য জরীপ কাজও শেষ করেছেন। কিন্তু কোন অগ্রগতি নেই। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত কাঁদার কারনে অন্তত ৮/১০টি গ্রামের লোকজনকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আশেপাশের ৫/৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও কষ্টের কোনও শেষ থাকে না।  পাকা না হওয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তার ওপর ধানের চারা লাগিয়ে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কুরুলিয়া গ্রামের মাসুদুল ইসলাম গুলু জানান, কুরুলিয়া থেকে গন্ধব্যখালী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা একান্ত জরুরী। বাঙ্গালী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের জন্মস্থান চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের নূরমোহাম্মদ নগরে। নূর মোহাম্মদ নগর থেকে চালিতাতলা-কুরুলিয়া-চন্ডিবরপুর-রতডাঙ্গা হয়ে এই সড়কটি নড়াইল শহরে গিয়েছে। সড়কের এই তিন কিলোমটার রাস্তা কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
কুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ হাফিজুর রমান বিলু জানান, কুরুলিয়া, রাজাপুর, চন্ডিবরপুর, শংকরপুর, গন্ধব্যখালী, ফুলবাড়িয়া, বাধাল, চালিতাতলা, রতডাঙ্গাসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে সকল সময়ে চলাচল করে। শিক্ষার্থীরা এই রাস্তা দিয়ে চন্ডিবরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হবখালী হামিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হবখালী আদর্শ কলেজ কলেজ, নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চালিতাতলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূরহোম্মাদ মহাবিদ্যালয়সহ  জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতাযাত করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত কাঁদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় বহু কষ্টে পায়ে হেটে গন্তব্যে পৌছাঁতে হয়। কাঁদা-পানিতে পরিধেয় কাপড় নষ্ট  হয়ে যাওয়ায় অনেক সময়ে গন্তব্যে না গিয়ে বাড়িতে ফিরে আসতে হয়।
চালিতাতলা বাজারের ব্যবসায়ী মোল্যা আবুল বাশার জানান, বর্ষা মৌসুুমে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। জেলার অন্যতম পাটের মোকাম নলদী হাটে এ রাস্তা দিয়েই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটসহ কৃষি পণ্য বিক্রি করে যান। কিন্তু এ মৌসুমে কাঁদার কারনে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যেতে হয়।
চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন জানান, রাস্তাটি অত্যান্ত জনগুরুত্বপুর্ণ। এ ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের মানুষ বিভিন্ন কাজে এই রাস্তাটি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাতাযায়াত করে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করে। তিনি চলতি অর্থবছরেই রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।
নড়াইল সদর উপজেলা প্রকৌশলী  মোঃ জহীর মেহেদী হাসান জানান, কুরুলিয়া পালবাড়ি হতে নলদী খেয়াঘাট পর্যন্ত ২.২১ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের জন্য ১ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার ৬ হাজার২৭ টাকার প্রাক্কলণ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দরপত্র আহবান করা হবে। Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন