বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা সমাগত। কাশফোঁটা শরতের শারদীয় এ দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে সারাদেশের মত যশোরাঞ্চলের মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। ব্যস্ত সময় পার করছেন
প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিমা শিল্পীর কল্পনায় দেবী দুর্গার অনিন্দ্যসুন্দর রূপ দিতে রাতভর চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমা তৈরির মূল উপাদান খড় ও মাটি দিয়ে কাঠামো তৈরির মধ্যে দিয়েই প্রথম প্রকাশ হয় শিল্পীর প্রতিমা তৈরির দক্ষতা ও শিল্পিত রূপ। এরপর বাকি সাজসজ্জা দিয়ে পূর্ণতা পায় দেবী দুর্গার সম্মোহনী শক্তির। প্রতিমা কারিগরা জানিয়েছেন, এখন প্রতিমার দো-মাটির কাজ করা হচ্ছে। অর্ডার অনুযায়ী সঠিক সময়ে প্রতিমা সরবারহের জন্য তাদের রাত দিন কাজ করতে হচ্ছে। আগামী ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে শারদীয় এ উৎসব। এর আগে ৪ অক্টোবর শুভ মহালয়া।
এ বিষয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি দীপক কুমার রায় বলেন, "প্রতিমা তৈরির কাজটি করে পাল সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে যে কেউ ইচ্ছে করলেই প্রতিমা তৈরি করতে পারে না। এটি একটি শিল্প। এই শিল্পটি বরাবরই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। অতীতে দেখা গেছে ধনাঢ্য ব্যাক্তিদের বাড়িতে গিয়ে ভাস্কর শিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা পরিবর্তন হয়েছে। ভাস্কর শিল্পীরা প্রতিমা তৈরির অর্ডার নিয়ে কাজ করছেন। পূজার আগে তারা প্রতিমাগুলো তুলে দেন পূজা মন্ডবে।"
যশোর  জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন বলেন, জীবনে অশুভ অসুর শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ সুর শক্তির প্রতিষ্ঠা করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন। উঁচু-নিচুর বিভেদ ভুলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্র করে মহাসম্মিলন ঘটানো হয় বলে এ পূজাকে বলা হয় সার্বজনীন পূজা। আর শরৎকালে হয় বলে বলা হয় শারদীয় উৎসব।" এ বছর ঠিক কতটি মন্ডপে পূজা হবে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। তবে গত বছর ৬শ ২৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও এর সংখ্যার খুব বেশি হেরফের হবার সম্ভাবনা নেই।"
জেলার ৮ উপজেলার ৬ শতাধিক মন্ডপে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। প্রতিবছরের মতো এবারও প্রতিমার দাম বেড়েছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ভাস্কর শিল্পীদের দাবি খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকেনা তাদের। যশোর শহরের বেজপাড়া পূজা সমিতি মন্দিরে অবস্থারত প্রতিমা শিল্পী শ্রী জয়দেবপাল জানান, এবছর ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকায় প্রতিমা অর্ডার নিয়ে তৈরী করা হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে প্রতীমার দামও।
তিনি আরো জানান, ১৬ বছর ধরে তিনি এই পেশায় আছেন। গত ৫ বছর নিজে আরো ৫জনকে সাথে নিয়ে কাজ করছেন। এবার তিনি ২০টি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। প্রতিমা তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে। শুধু জয়দেবপাল নয় তার মতো ভাস্কর শিল্পীরা যথাসময়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে রাত দিন কাজ করে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন