যশোরের কেশবপুরে গত ১ মাসে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়ে সাগরদাঁড়ি ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের ৫ টি গ্রামের ৮’শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বন্যা কবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে
মানুষের ভোগান্তি চরমে। গত এক মাসেও বন্যা পিড়িতদের মাঝে কোন ত্রাণ বা সাহায্য পৌঁছায়নি।
সরেজমিন জানাগেছে, গত ১৯ আগস্ট রাতের আধারে কতিপয় ব্যক্তি শেখপাড়া রাস্তাটি কেটে দিলে উপজেলার সাগরদাঁড়ি ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের আউলগাতী, নেহালপুর ও শেখপুরা গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৪’শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। গত ১ মাসেও কেটে দেওয়া স্থান বন্দ না করায় কপোতাক্ষ  নদের উজানের পানির চাঁপে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের রেজাকাটি ও বগা গ্রাম প্লাবিত হয়ে মোট ৫ গ্রামের ৮’শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পানির চাঁপে কাঁচা ঘর-বাড়ি ধ্বসে পড়ছে। প্লাবিত এলাকায় মানুষের মাঝে খাদ্র ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। মানুষ বাধ্য হয়ে ডুবে যাওয়া নলকুপের পানি ব্যবহার করছে। সেনিটেশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে হুমকীর মুখে। নেহালপুর গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, কেটে দেওয়ার স্থানটি বেঁধে না দেওয়ার কারণে নেহালপুর গ্রামের ৩৮০ পরিবারসহ নতুন করে করে রেজাকাটি ৯০ টি ও বগা গ্রামের ৬০ টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নেহালপুর গ্রামের নুরুল হোসেন বলেন, গত ১ মাস যাবত আমরা পানিবন্দি হয়ে থাকলেও আমাদের কেউ খোঁজ নেয়নি। গবাদিপশুসহ শাপ-বিচ্ছুর সাথে ঝুঁকির মধ্যে আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার জানান, বন্য পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮’শ পরিবার পানি বন্দি হয়ে আছে এ মর্মে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র মারফত অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, বন্যা কবলিত মানুষের জন্য এই মুহুর্তে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন