দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী মেডিকেল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় ৪ আসামির রায় বুধবার ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে শুক্রবার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারে আসামিরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছেন আদালতে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আসামিরা চিৎকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
নয়মাস আগে ধর্ষণের শিকার নিহত নির্ভয়ার মা বিচার চলাকালীন সময় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। তিনি বলেন, “তাদের ফাঁসিতে ঝুলানো উচিত। কোনো ক্ষমার জায়গা নেই এখানে। এটাই হবে আমার মেয়েসহ দেশের সবার জন্য সুবিচার।”
কয়েকদিন ধরেই আদালতে বাদী ও বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। প্রথমে মঙ্গলবার ও পরে বুধবার রায় ঘোষণার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে শুক্রবারকেই বেছে নেন বিচারকরা।
চার আসামির মধ্যে রয়েছেন প্রধান আসামি রাম সিংয়ের ভাই মুকেশ সিং, ফল বিক্রেতা পবন গুপ্ত, বাসের হেলপার অক্ষয় কুমার, জিম প্রশিক্ষক বিনয় শর্মা। গণধর্ষণ, বিকৃত কাম, খুন এবং আলামত নষ্টসহ মোট ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে এদের বিরুদ্ধে।
প্রধান আসামি বাস চালক রাম সিং চলতি বছরের মার্চ মাসে তিহার জেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। চার আসামির আরেক সহযোগীকে বয়স কম বলে তিনবছরের জন্য সংশোধনীগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, দিল্লির আদালত জানিয়েছে, ধর্ষণের পর প্রহারের গুরুত্ব দেখে বোঝা যায় তারা এ কাজ খুন করার উদ্দেশ্যই করেছে। সেইসাথে প্রথমবারের মত চার আসামির ছবি প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার।
গতবছরের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে ধর্ষিত হন মেডিকেল শিক্ষার্থী নির্ভয়া। এ সময় তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে শারীরিকভাবে গুরুতর আহত করে ধর্ষণকারীরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালেও পাঠানো হয়। পরে ২৯ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তার।
নির্ভয়ার মৃত্যুতে ভারতে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়। প্রবল চাপের মুখে পড়ে সরকার। পুলিশের তৎপরতায় মাত্র একসপ্তাহের মাথায় ধরা পরে ছয় ধর্ষক। তারপরই এদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয়।
সূত্র : এনডিটিভি
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন