নিঃসন্দেহে বড় খবর। পঞ্চাশের দশকে আঁকা শিল্পী এস এম সুলতানের ছবি নিয়ে প্রদর্শনী হচ্ছে। অনাবিষ্কৃত সেসব ছবি শিল্পবোদ্ধাদের এক নতুন সুলতানকে সামনে নিয়ে এসেছে। ছবিগুলোর বেশিরভাগই চারকোলে আঁকা। এর বাইরে রয়েছে কিছু স্কেচ এবং পেইন্টিং। এস এম সুলতানের বন্ধু যশোর মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম জোয়ারদারের কাছে সংরক্ষিত ছিল ছবিগুলো। গতকাল শনিবার রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে 'অদেখা সুষমা' শিরোনামে শুরু হয় এ একক প্রদর্শনীর। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এ আয়োজনের উদ্যোক্তা।

প্রদর্শনীতে স্থানপ্রাপ্ত চিত্রগুচ্ছ রেখাভিত্তিক। বাঙালি নারীর অবয়ব ও দেহসৌষ্ঠব, দিগন্তবিস্তারি প্রকৃতির কমনীয়তা ফুটে উঠেছে অন্যরকম ব্যঞ্জনায়। ছবিগুলোর সংরক্ষক আবুল কাসেম জোয়ারদার বলেন, ১৯৫১ সালের দিকে আমি সুলতানকে একটি ড্রইং খাতা কিনে দিয়েছিলাম। সেই ড্রইং খাতাটি আমার ঘরের বইয়ের স্তূপে পড়েই ছিল। গত বছর সৈয়দ আমিনুল হক কায়সারের সঙ্গে আলাপচারিতায় আমার মনে পড়ে যে, খাতাটি আমার কাছে রয়েছে। কায়সার সে খাতাটি আমার কাছে থেকে নিয়ে যায়। পরে তাঁরই উদ্যোগে বেঙ্গলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এ প্রদর্শনীর আয়োজন।

সুলতানের ছবিগুলো প্রসঙ্গে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সবকটি ছবিই খুব স্বতস্ফূর্তভাবে আঁকা। এই ছবিগুলোতেও সুলতানের শক্তিমত্তার পরিচয় মেলে। তিনি খুব খেয়ালের বশেই ছবিগুলো এঁকেছেন। সে কারণে কোন ছবিতেই স্বাক্ষর নেই। কিন্তু শিল্পবোদ্ধাদের বুঝতে কষ্ট হয় না যে ছবিগুলো সুলতানেরই আঁকা। কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এস এম সুলতানের মধ্যে যে দেশপ্রেম খুব তীব্র ছিল তা এই ছবিগুলো দেখে নতুন করে উপলব্ধি করা যায়।

শিল্পীর শৈলী, চিত্রভাষা ও বিষয়ের গুণাবলি মনোগ্রাহী ভঙ্গিতে প্রতিফলিত হওয়া ছবিগুলো নিয়েই তার মৃত্যুর ১৯ বছর পর এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন এই ক্ষণজন্মা শিল্পী।

গতকাল সন্ধ্যায় বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, শিল্পকর্ম সংগ্রাহক রোকেয়া কাদের, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান এবং শিল্পসমালোচক মইনুদ্দীন খালেদ। এ সময় চিত্রকর্মগুলোর সংগ্রাহক অধ্যাপক আবুল কাসেম জোয়ারদারও উপস্থিত ছিলেন।

৮৬টি চিত্রকর্ম নিয়ে শুরু হওয়া প্রদর্শনী আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

শিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালে নড়াইলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার গভ. কলেজ অব্ আর্টস এন্ড ক্রাফটসে পড়াশোনা করেন। তিনি ১৯৮২ সালে 'একুশে পদক', ১৯৯৩ সালে 'স্বাধীনতা দিবস পদক' এবং ১৯৮৬ সালে 'চারুশিল্পী সংসদ পদক' লাভ করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার তাকে 'রেসিডেন্ট আর্টিস্ট' শীর্ষক বিশেষ সম্মাননা দেয়। তিনি লন্ডনের হ্যামস্টেডের ভিক্টোরিয়া অ্যামব্যাঙ্কমেন্টে পিকাসো, দালি, ক্লি প্রমুখ বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে দলগত প্রদর্শনীতে অংশ নেন। শিল্পী সুলতান ১৯৬৯ সালে নড়াইলে কুড়িগ্রাম ফাইন আর্টস ইনস্টিটিউট এবং ১৯৭৩ সালে যশোরে 'চারুপীঠ' (স্কুল অব্ ফাইন আর্টস) প্রতিষ্ঠা করেন।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন