কিছুক্ষণ পর ছুটে আসে কয়েকজন তরুণ-তরুণী। অচেতন তরুণীর পাশে দাঁড়িয়ে দাঁতমুখ খিচিয়ে প্রতিবাদ করে অদৃশ্য কারো প্রতি। এসব তরুণ-তরুণীর দিকে কারো দৃষ্টি নেই। নির্লিপ্তভাবে পাশ কেটে চলে যাচ্ছে কেউ কেউ।
এ চিত্রটি বুধবার দুপুরের। রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে। পাশেই তৈরি পোশাক কারখানা শারমিন গ্রুপের মূল ফটক।
সামনে এগিয়ে গিয়ে জানা যায় তরুণীটির নামও শারমিন। তবে ওই গার্মেন্টসের মালিক কিংবা মেয়ে নয়। এক পথবালিকা! বয়স ২০ থেকে ২২। থাকেন টঙ্গীর রেল স্টেশন এলাকার বস্তিতে। পথের পাশে পড়ে থাকা বোতল, ময়লা, আবর্জনা ও কাগজ কুড়িয়ে তা ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করে চলে জীবন। অভাবের তাড়নায় দুপুরে ময়লা আবর্জনা কুড়াতে শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আসেন। সেখানে তাকে চোর সন্দেহে অমানুষিক নির্যাতন করে নিরাপত্তা কর্মীরা।
শারমিনের সঙ্গে আসা জুয়েল ও সোহেলসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১২টার দিকে তারা কারাখানার পাশের সড়কে আবর্জনার স্তুপ থেকে কাগজ, প্লাস্টিক, বোতল কুড়িয়ে নিচ্ছেলেন। এসময় শারমিন গ্রুপের সিকিউরিটি গার্ড অনিতা বাউন্ডারির ভেতরে ডেকে নিয়ে যান শারমিনকে। এরপর দুইজন পুরুষ গার্ড শারমিনকে চোর আখ্যা দিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে জখম করে। পরে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানায়, শারমিনকে উদ্ধার করে আশুলিয়ার সরকার মার্কেট এলাকার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। কিন্তু বিল পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে তারা শারমিনকে নিয়ে চিৎকার করতে থাকেন মানুষের সাহায্য পাওয়ার জন্য। প্রতিবাদ জানায় নিষ্ঠুর এ বর্বরতার। তবে তারা পথশিশু হওয়ায় কেউ তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেনি।
শারমিনের সঙ্গী জুয়েল ও সোহেল ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘সামাইন্য কারণে শারমিনরে নির্যাতন করছে। আমরা পথে পথে ঘুরি, ময়লা জামাকাপড় পরি। হেল্লাইগাই (এ জন্যও) এতো চিল্লাইনের (কাকুতি মিনতি করেও) পরও কেউর মন গলেনাই।’
স্থানীয় এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঘরে বাইরে কারো প্রতি কারো মায়া দয়া নেই। তাই আজ ভয়ঙ্কর আর নির্মম কিছু ঘটনা দেখতে হচ্ছে চোখের সামনে।’
বিকেলের দিকে শারমিন কিছুটা সুস্থ্য হলে তাকে টঙ্গী নিয়ে যায় তার সঙ্গীরা। তবে তখন পর্যন্তও কথা বলতে পারছিলেন না তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার সিকিউরিটি ম্যানেজার আব্দুস সামাদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘মেয়েটি কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন পণ্য চুরি করার চেষ্টা করে। তবে তাকে মারপিট করা হয়েছে কি না তা জানা নেই।’
আশুলিয়া থানার এসআই জাকারিয়া বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।’
আরো সংবাদ পড়ুন

0 মন্তব্যসমূহ