সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে
যশোরে। জেলার উৎপাদিত সবজি ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। শীত ও গ্রীষ্মকালীন
৩৩টির
মধ্যে ১৪ ধরনের সবজির উৎপাদনে শীর্ষে যশোর। প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৩ লাখ টন
সবজি সরবরাহকারী জেলাটির অর্থনীতি কয়েক বছরের ব্যবধানে সবজিনির্ভর হয়ে
উঠছে।
৩৩টির
মধ্যে ১৪ ধরনের সবজির উৎপাদনে শীর্ষে যশোর। প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৩ লাখ টন
সবজি সরবরাহকারী জেলাটির অর্থনীতি কয়েক বছরের ব্যবধানে সবজিনির্ভর হয়ে
উঠছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে জানা
গেছে, যশোরে গ্রীষ্মকালে সবজি উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৪৭ হাজার টন। তবে এ সময় ২০
ধরনের সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় বেগুন, পটোল, ঢেঁড়স, করলা,
পুঁইশাক, চিচিঙ্গা, ডাঁটা শাক, পেঁপে ও কলা। এছাড়া শীতকালে উৎপাদন হয় ২ লাখ
৯ হাজার টন। এসময় সাধারণত বেগুন, বাঁধাকপি, কুমড়া, পালংশাক ও লালশাক বেশি
হয়। সার্বিকভাবে ৫ লাখ ৫৬ হাজার টন সবজি উৎপাদন হলেও এ অঞ্চলের চাহিদা
মেটানোর পর সারা দেশে সরবরাহ করা হয় প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন।
এ
বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের যশোর অঞ্চলের উপপরিচালক হেমায়েত হোসেন
বলেন, জেলার অর্থনীতি সবজিনির্ভর হিসেবেই গড়ে উঠছে। প্রতি বছরই বাড়ছে সবজি
উৎপাদন। ভালো দাম পাওয়ার কারণে কৃষক এতে আগ্রহী হচ্ছেন।
সরেজমিনে
দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালের সবজি ওঠার পর জেলার কৃষক এখন শীতকালের সবজি
পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে চূড়ামনকাঠি হয়ে
বারোবাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ও যশোর-নড়াইল সড়কের বাঘারপাড়া
এলাকায় প্রায় ১৩ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশেই চোখে পড়বে নানা ধরনের
সবজিক্ষেত। আবার যশোর-মাগুরা বাইপাস সড়কের আড়পাড়া পর্যন্ত প্রায় পুরো
এলাকায় সবজির সঙ্গে অনান্য ফসলের আবাদও হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের
কর্মকর্তারা জানান, যশোরের সব কটি উপজেলায় এখন পুরোদমে সবজির আবাদ চলছে।
সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলায়। এখানকার কৃষকরা সবজি চাষ করে
ভালো মুনাফা ঘরে তুলছেন।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলার শাহবাজপুরের
আতিয়ার রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে শিম আবাদে তার খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার
টাকা। পুরো মৌসুমে তিন হাজার কেজি শিম বিক্রি করতে পারবেন। প্রতি কেজি ৩৫
টাকা দরে বিক্রি হলেও প্রায় ১ লাখ টাকা পাবেন।
একই এলাকার
নাটুয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুস সামাদ বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে কাঁকরোলের আবাদ
করেছি। প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ মণ বিক্রি করেছি।
ভালো মুনাফার আশা করছি।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিজের প্রয়োজনে
একসময় এ এলাকায় সবজির আবাদ হলেও এখন বাণিজ্যিকভাবেই আবাদ করছেন বেশির ভাগ
কৃষক। অনান্য ফসলে মুনাফা না পাওয়ার কারণে সবজি আবাদকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন
তারা। এখানকার আবহাওয়া সবজি আবাদের জন্য বেশ উপযোগী। কেননা জেলায় বৃষ্টি হয়
তুলনামূলক কম। সবজি আবাদ বাড়ার কারণে ধান ও গমের আবাদ কমছে। তবে
সবিজনির্ভরতাও এ এলাকার জন্য কিছুটা ঝুঁকিও সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আমিরুল
আলম খান বলেন, একই জমিতে প্রতিনিয়ত একই ধরনের সবজি আবাদের কারণে উর্বরা
শক্তি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবজি ক্ষতিগ্রস্ত
হলে বিপর্যয়ে পড়বেন এখানকার কৃষক। তাই শস্য বীমার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া
সরবরাহব্যবস্থা কৃষক ও ব্যবসায়ীবান্ধব নয়। স্থানীয় বাজারগুলোর অবকাঠামো বেশ
দুর্বল। রাজধানীতে পণ্য নিতে বড় একটি নদী পার হতে হয়। সেখানে দীর্ঘ সময়
অবস্থানের কারণে সবজি নষ্ট হয়। সার্বিকভাবে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এতে চরম
ক্ষতির শিকার হন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,
এবারের গ্রীষ্মকালে ১৪ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। গত বছর এ
সময়ে আবাদ হয়েছিল ১৪ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে। এসব সবজি ক্ষেত থেকে উঠে
যাওয়ার পর কৃষকরা শীতকালীন সবজি আবাদ শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে কৃষি
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, কোন অঞ্চলে
কী ফসল হবে, তা মূলত আবহাওয়া ও কৃষকের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। ভালো দামের
সঙ্গে কম বৃষ্টিপাতের কারণে জেলাটি সবজি আবাদের জন্য উপযুক্ত।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ