উদ্যোগেও
অনেক তরুণ আউটসোর্সিং করে মাসে প্রায় লাখ টাকা আয় করছেন৷ তারা প্রচলিত
ধারার চাকরি না খুঁজে হয়ে উঠছেন সাবলম্বী৷ চলতি বছরে সফটওয়্যার রপ্তানি করে
বাংলাদেশ আয় করেছে ১০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ গত বছর এই আয় ছিল ৭০ মিলিয়ন
ডলার৷ সফটওয়্যার রপ্তানিকারকদের সংগঠন বেসিস এর সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর
জানান, তাদের আশা আগামী বছর রপ্তানির পরিমাণ ২০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে৷
সফটওয়্যার
তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন বাংলাদেশে প্রায় ছয়শো৷ ব্যক্তিগত
উদ্যোগে কাজ করছেন এমন তরুণ, যুবকের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার৷ বাংলাদেশের
তৈরি সফটওয়্যারের বাজার গড়ে উঠেছে ইউরোপ, অ্যামেরিকায়৷ ফাহিম মাশরুর জানান,
অনেকে হয়ত জানেনই না বড় বড় মোবাইল ফোন কোম্পানির ফোনসেটের জন্য নানা ধরণের
অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বাংলাদেশেই তৈরি হচ্ছে৷ এছাড়া ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন,
বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাজের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করে নেয়া হচ্ছে
বাংলাদেশ থেকে৷
এসব
কাজে প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে তরুণরা যুক্ত হচ্ছেন৷ বাংলাদেশে
এখন ২৫ হাজার তরুণ আছেন যারা ঘরে বসেই আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে সফটওয়্যার
তৈরি করে বাইরে পাঠাচ্ছেন৷ তাদের প্রত্যেকের আয় মাসে গড়ে এক থেকে দেড় হাজার
ডলার৷ ফাহিম মাশরুর জানান শুধু ঢাকা নয় ঢাকার বাইরেও কাজ হচ্ছে৷ ঢাকার
বাইরে সফটওয়্যার তৈরির প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠছে৷
তবে
বাংলাদেশে এই শিল্পের প্রধান বাধা স্বল্পগতির ইন্টারনেট এবং তার খরচ৷
সেইসঙ্গে প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবতো আছেই৷ বেসিসের উদ্যোগে প্রতিবছরই কিছু
প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়৷ তবে এজন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন
ফাহিম মাশরুর৷ তিনি বলেন, ঢাকার কারওয়ান বাজারে একটি ভবন বরাদ্দ দেয়া
হয়েছে, যেখানে সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জায়গা পেয়েছে৷ আর
ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো ও খরচ কমানোর উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে৷
সফটওয়্যারের
অর্ডার এবং তা পাঠানোর জন্য ইন্টারনেট যেমন জরুরি তেমনি সহায়ক ইউটিউবসহ
আরো কিছু ওয়েবসাইট৷ কারণ অনেক সময় নানা ধরণের ডিজাইন এবং চাহিদা ইউটিউবের
মাধ্যমেই আসে৷ ফাহিম মাশরুর জানান, কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে ইউটিউব বন্ধ
থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই শিল্পে৷ তাই এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত
নিলে তা ভেবেচিন্তে নেয়া দরকার বলে মনে করেন ফাহিম৷
আরো সংবাদ পড়ুন

0 মন্তব্যসমূহ