জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, জমির পরিমাণ হ্রাস,
জলবায়ুর পরিবর্তন এবং কৃষি বিভাগের কার্যকর পদপে গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে
বিগত ৪ দশকের ব্যবধানে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী দেশীয় ফল
বিলুপ্তির হুমকিতে পড়েছে। বর্তমানে ফলের বাজারের শতকরা ৮০ ভাগই দখলে রেখেছে
বিদেশ থেকে আমদানি করা ফল। এসব কেমিক্যাল মেশানো ফল খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি
বৃদ্ধির পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে পুষ্টি ঘাটতিও।বাংলাদেশের আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতি গ্রীষ্ম মন্ডলীয় ফল উৎপাদনে বিশেষভাবে সহায়ক। রোপণ না করা সত্ত্বেও প্রাকৃতিকভাবে এ উপজেলায় এক সময় প্রচুর পরিমাণে ফল জন্মাতো। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়-শ্রাবণ এই ৪ মাসেই পাওয়া যেত শতকরা ৬০ ভাগ দেশী ফল। আর বাকি ৮ মাসে পাওয়া যেত ৪০ ভাগ। কৃষি প্রধান ও উর্বর মাটির এই দেশের গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফল গাছের জাত ছিল শতাধিক। নানা কারণে গত ৪ দশকের ব্যবধানে এ সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধেকে। বর্তমানে সব মিলিয়ে দেশী ফল আছে ৫০-৬০টি। এগুলোর মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, গোলাপজাম, নারিকেল কুল, বীচিকলা, বেতফল, লেবু, আমলকি, সফেদা, কলা, ডালিম, জাম্বুরা, তরমুজ, বাঙ্গি, বেল, কামরাঙ্গা, জলপাই, পেঁপে, তেতুল, তাল, কদবেল, আনারস, খেজুর, জামরুল, লটকন, আমড়া, কমলা, করমচা ও মুনিয়া উল্লেখযোগ্য। অস্বিস্তবিহীন হয়ে গেছে বা খুঁজে পাওয়া যায় না পানি ফল, আশফল, ডুমুর, আতা, শরিফা, গাব, বকুল, ডেউয়া, জগডুমুর, বৈচি, চালতা প্রভৃতি। কাগজে-কলমে ৫৫টি দেশীয় ফলকে বর্তমানে চিহ্নিত করা গেলেও বাস্তবে ৩৯টিরও বেশি খুঁজে পাওয়া কঠিন। বর্তমানে ফলের বাজারের শতকরা ৮০ ভাগ দখলে নিয়েছে আমদানি করা বিদেশী ফল। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে আপেল, কমলা, আঙ্গুর, খেঁজুর, বেদানা, স্ট্রবেরি ও ড্রাগন। আমদানি করা এসব ফলে রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। পুষ্টিবিদদের দাবি প্রাথমিকভাবে তিকারক রাসায়নিক মিশ্রিত ফল খাওয়ার কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা না দিলেও ভবিষ্যতে এর সুদূর প্রসারি প্রভাব রয়েছে।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ