এটা কোন গল্প না। মেক্সিকোর নাগরিক সান্দ্রা নামক এক মেয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনা। সান্দ্রা ছোট বেলা থেকেই একা একা বড় হয়েছে। তার তেমন কোন বন্ধু বান্ধব ছিল না তাই সারাদিন সে নিজেকে নিয়েই থাকতো। ১০ বছর বয়সে সে প্রথম একটি ম্যাগাজিন হাতে পায় যেটা তাকে এক ভিন্ন জগতের প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে।

ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে থাকা গ্ল্যামারাস নারীকে দেখে তার নিজেরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে ইচ্ছে করে যাতে তাকে সবাই ভালবাসে, তার প্রতি সবাই আকৃষ্ট হয়। সে তার একাকীত্ব ঘোচানোর জন্য এক নতুন কল্পনার জগতকে বেছে নেয়। সান্দ্রা বলেন, কলেজে পড়ার সময় আমি কোন কাজ করতাম না, সারাদিন পার্টি নিয়ে ব্যাস্ত থাকতাম।

সে সময় আমি একজনকে বিয়ে করি এবং এর কিছুদিন পর আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তারপর আমি আরেকজনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলি যে তার নিজের সংসার ফেলে আমার সংস্পর্শে আসে। আমি নিয়মিত ড্যান্স বারে যেতে থাকি এবং মদের প্রতি ভীষণ আসক্ত হয়ে পড়ি। কিছুদিন পর আমি কলেজ ছেড়ে নর্থ ক্যারোলিনায় চলে যাই। সেখান থেকে আমি আমার এক বন্ধুর সাথে যৌথ ভাবে দেহ ব্যবসা শুরু করি। আমি নিজেও এই কাজের সাথে সরাসরি যুক্ত হই, এমনকি আমার থেকে ৪০ বছরের বড় এক লোকের সাথেও আমি যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হই।

তারপর একদিন এক খদ্দেরের সাথে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠে যে আমাকে অনেক ভালোবাসতো। পরে তাকে আমি বিয়ে করি। কিন্তু কিছুদিন পর সেও আমাকে ছেড়ে চলে যায় তার চাহিদা মিটে যাওয়ার পর। ২৪ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মত আমার বিয়ে ভেঙ্গে যায়। তারপর আমি ক্রমাগত ছেলেদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলি এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দুই বার গর্ভবতী হই ও দুই বার তা অপসারণ করি। আমি বিভিন্ন ম্যাগাজিনে ও ম্যাসাজ পার্লারে নিয়মিত যেতাম।

একসময় জীবন থেকে পালাতে আমি আমার নিজের এক জগত তৈরি করে ফেলি। আমি কোকেনে আসক্ত হই এবং মেক্সিকোর বিভিন্ন জায়গায় এর ব্যবসা শুরু করি। এর সাথে সাথে আমার যৌন কার্যকলাপ চলতে থাকে এবং প্রতি রাতে কয়েকজন সঙ্গীর সাথে আমি মিলিত হতাম। একদিন আমি নিজেকে আবিস্কার করি রাস্তার পাশে যেখানে তিন পুলিশ ও এক ড্রাইভার আমাকে ধর্ষণ করে গাড়ি থেকে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে যায়। সে সময় আমি প্রতিদিন ৮ টি চ্যানেলে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর্ণ দেখতাম। ২০০২ সালে আমি ইংল্যান্ডে ইন্টারনেট পর্ণ সম্মেলনে যোগ দেই।

তখন আমার জীবন কিভাবে চলতো আমি নিজেই তা উপলব্ধি করতে পারতাম না। আমার চারপাশে অনেক মানুষ থাকতো কিন্তু তারপরও নিজেকে সবসময় খুব একা লাগতো।

একদিন হঠাৎ করে আমি আমার পর্ণ ব্যবসা ও সকল আত্মীয়স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি। তখন আমার এক বন্ধু আমাকে নিয়মিত গির্জায় যেতে বলল। ব্যাপারটা আমার কাছে খুবই অদ্ভুত ও হাস্যকর মনে হল। আর গির্জায় গেলে আমার মেকআপ উঠিয়ে ফেলতে হবে আর জামাও পরিবর্তন করতে হবে। আর সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়েও আমার সংশয় ছিল তাই আমি যেতে চাইছিলাম না। আর সৃষ্টিকর্তা যদি থেকেও থাকে তাহলে তিনি আমার মত মানুষকে সোজা অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করবেন এটাই ছিল আমার ধারনা।

তাছাড়া আমার মত মানুষকে গির্জার লোকজনও ভালবাসবে না, দূর দূর করে তাড়িয়ে দিবে এমন ধারনাও ছিল আমার মনে। সব চিন্তা দূরে ঠেলে নতুন অভিজ্ঞতার জন্য আমি গির্জায় যেতে রাজী হলাম। গির্জায় যাওয়ার পর সবাই আমার সব ধারনা ভুল প্রমানিত করে উষ্ণ আলিঙ্গনে ও আন্তরিকতার সাথে গ্রহন করে নিল। আমার মনে গড ও যিশু কে নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন ছিল এবং প্রথম ছয় মাস আমি শুধু আমার প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি।

২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল আমি সত্যি সত্যি ঈশ্বরের খোঁজ পাই এবং বুঝতে পারি তিনিই সবচেয়ে ক্ষমাশীল এবং আমাকে তিনি সত্যিই ভালবাসেন এবং আমি বিশ্বাস করি আমার সব অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দিবেন। তারপর থেকে আমি নিয়মিত ধর্মচর্চা করতে থাকি। ২০০৫ সালে এসে আমি আমাদের গির্জার প্রধান পূজারী হিসেবে মনোনীত হই। আমি ঈশ্বরের প্রার্থনা করে প্রতিনিয়ত নিজেকে পরিশুদ্ধ করছি। এখন আমি উপলব্ধি করি ধর্মই মানুষকে আলোর পথ দেখাতে পারে যা অন্য কোন কিছু দিয়ে সম্ভব নয়।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন