ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ মামলায় চার অভিযুক্তকে ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। শুক্রবার দিল্লির একটি দ্রুত বিচার আদালত তাদের ফাঁসির রায় দেয়।
এর আগে, মঙ্গলবার দিল্লি গণধর্ষণ মামলায় চার অভিযুক্ত বিনয় শর্মা, অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্ত ও মুকেশ সিংকে দোষী সাব্যস্ত করে দ্রুত বিচার আদালত।
ফাঁসির রায় ঘোষণার পর বিনয় শর্মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিচারক যোগেশ খান্না বলেন, “মেয়েটির এতটায় নির্মম অত্যাচার চালানো হয়েছিল যে, মামলাটিকে বিরলতম ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী এপি সিং নাটকীয়ভাবে কান্না লুকাতে লুকাতে সাংবাদিকদের বলেন, “রায় রাজনৈতিক ও জনগণের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।”
এদিকে, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মেয়েটির বাবা সাংবাদিকদের বলেন,“ রায়ে আমরা খুশি। এই রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”  এসময় মেয়েটির মা ও তার দুই ভাই সঙ্গে ছিলেন।
বাকি দুইজনের মধ্যে একজনের সময় ওই ঘটনার সময় ১৭ বছরের কম থাকায় তাকে তিন বছরের জন্য বিশেষ সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় আইন মেনে গণমাধ্যমে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত রাম সিং হাজতেই আত্মহত্যা করে।
গত বছর ১৬ ডিসেম্বর বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে ফেরা সময় দিল্লিতে চলন্ত বাসে ছয় ব্যক্তির গণধর্ষণ আর পৈশাচিক অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন বছর ২৩-এর প্যারামেডিক্যালের এক ছাত্রী। ওই ছাত্রীর সঙ্গে থাকা ছেলে বন্ধুকেও মারধর করে ধর্ষণকারীরা। পরে তাদের হত্যার উদ্দেশে চলন্তবাস থেকে ফেলে দেয়া হয়।
মারাত্মক আহত ওই ছাত্রী মৃত্যুর সঙ্গে তীব্র পাঞ্জা লড়েও শেষ পর্যন্ত হার মানেন।
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ হয়। নজিরবিহীন প্রতিবাদের জেরে আইন বদলানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়। সূত্র: এনডিটিভি
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন