ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত পথে আসা ফেন্সিডিল আর ইয়াবায় সয়লাব হয়ে গেছে গোটা যশোর। পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের সংখ্যা আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষাক্ত এই মাদকের থাকায় আক্রান্ত হয়ে অন্ধকার জগতে তলিয়ে যাচ্ছে যুব সমাজ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে মাদক বিক্রেতারা সীমান্ত পথে বানের পানির মত আনছে হেরোইন, ফেন্সিডিল ও ইয়াবা। মাদকবিক্রেতাদের কাছ থেকে কোতয়ালি মডেল থানার কয়েকজন দারোগা যশোর নারকোটিকর্স বিভাগের কর্তার সহযোগিতায় কারনে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সূষ্ঠি হয়েছে। মাদকের ভয়াল ছোবলের কারনে অবিভাবকরা তাদের সন্তান ও নিকট আত্মীয়দের নিয়ে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
শহরে ৫ শতাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বছরের পর বছর মাদকবিক্রি করে গেলেও প্রশাসনের কোন মাথা ব্যথা নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে জেলায় মাদক বিরোধী বড় কোন অভিযান না চালানোর কারণে ওই সমস্ত উপজেলায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীসহ নিত্য নূতন ব্যবসায়ীরা এখন বেপরোয়া ভাবে নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত থেকে আসা হেরোইন, ফেন্সিডিল, গাঁজা প্যাথোডিন, ইনজেকশন ও দেশীয় তৈরি চোলাই মদেও সাথে ইয়াবা এখন শীর্ষ স্থানে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। ঐ সমন্ত বিষাক্ত মাদক দ্রব্যের নেশার কবলে পড়ে জেলার প্রায় অর্ধ লক্ষ পরিবারের মানুষ সর্ব শান্ত হয়ে পথে বসতে যাচ্ছে।
এব্যাপারে কোতয়ালি থানার ওসি জানান, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতারের জন্য, কিন্তু জামিনে এসে ফের তারা সাবেক ব্যবসায় ফিরে যায়, এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।
ইয়াবা বিক্রেতাদের মধ্যে জাকির, নাসির, তপন, লিটন দেদারছে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আরএন রোড নতুন বাজারে ইয়াবা ব্যবসা করছে জাহিদ। খালধার রোডে ইয়াবার ঘাঁটি গড়ে তুলেছে কসাই মনি। শহরতলীর পুলের হাটে রয়েছে বূহৎ সিন্ডিকেট। প্রতিদিন সেখানে লাখ লাখ টাকার ইয়াবা বিক্রি বেচাকেনা হয়।
এলাকার তৌহিদ, মিকাইল, হাসান, আজিজুর, লিটু, আল আমিন, মান্নান (পুলিশের সোর্স), আলী হোসেন, সোহেল ও রাশেদ এই সিন্ডিকেটের মুল হোতা। ফেন্সিডিল ও ইয়াবা বিক্রি করছে শহরের ষষ্টিতলা পাড়ার সাইফুল ও হাফিজ। রেলগেট এলাকার মাদকসম্রাজ্ঞী ডালিম তার ডেরায় প্রতিদিন ৩০/৪০ ইয়াবা বিক্রি করছে। তার সাথে পার্টনার হিসেবে ব্যবসা করছে স্বপন নামে অপর এক মাদক ব্যবসায়ী।
ফেন্সিডিল ও অন্যান্য মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে নীলগঞ্জ এলাকার জিয়া, গাড়িখানা এলাকার রানা, এমএম কলেজ এলাকার মিলন, চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার সোনিয়া, লুৎফর, রেলগেট চাঁচড়া রায় পাড়ার নুর হোসেন ও তার পুত্র খোকন হাওলাদার, বাদশা, টাক জালালের স্ত্রী খুরশিদা, ছেলে সেলিম, লাভলু, আঙ্গুল কাটা মিন্টু, তার স্ত্রী নুরি, বাদশা মিয়ার ছেলে সানী, দাঁড়িওয়ালার দেলোর স্ত্রী শেফালী, মোহাম্মদ আলী, জাফর, হোসেন, মামুন, আরিফ, দেলোয়ার হোসেন দিলা, তার মেয়ে রানী, জামাই বাদশা, সেকেন্দার, লুৎফর, খোকন, সেলিম,তার স্ত্রী খুরশিদা, ছোট শরীফ, বড় জয়নাল, ছোট জয়নালসহ কমপক্ষে ৪০ জন মাদক ব্যবসায়ী।
চাঁচড়া ইসমাইল কলোনীর বুদ্ধি বুড়ির পুত্র মামুন, শহিদুল, হাজরা, শিউলী, রায়পাড়া রাজাবরদাকান্ত রোডের মোবারক, তার স্ত্রী টুনটুনি, শংকরপুর সার গোডাউন বাবলাতলা এলাকার হাতুড়ে খোকন, স্ত্রী নাসিমা, জামাই শামীম, পাকা রাস্তা এলাকার বাপ্পি, নয়ন, তুলোতলা এলাকার জয়নাল, রুমা, ফজিলা, বোনাই কালু, গণ্ডার বাবু, সিপলা, রেলপুকুর পাড় এলাকার আকতারের স্ত্রী শাহানা, মনার ছেলে ইকবাল, শংকরপুর মুরগী ফার্ম এলাকার ছোটবাবু, স্ত্রী সুফিয়া, কন্যা পারভীন, রেলস্টেশন এলাকার বেগম, হুজুর পুত্র হোসেন, নিঝুম হোটেলের পিছুনে রহিম ও তার স্ত্রী আছিয়া, শাহনাজ হোটেলের পিছনে সেলিম, জামাল, আশ্রম রোড এলাকার শওকত, শংকরপুর বাসটার্মিনাল এলাকার কামাল, খালেক।
যশোর শহরের সিটি কলেজ পাড়ার ১৩ জন, মোল্যা পাড়ার ৬ জন, মুড়োলী মোড়ের ১২ জন,  যাদের কাছ থেকে মাসে কোতয়ালির পুলিশ এবং একজন সহকারি পুলিশ সুপার লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করে যাচ্ছে চিহ্নিত পুলিশ সদস্য।
এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা সকল মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক বখরা আদায় করে থাকে। কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত মাদকের স্পট গুলোতে উৎকোচের আদায়ের জন্যে ঘুরতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পরে ওই মাদক বিক্রেতাদেরকে ডিসি অফিসের পুকুর পাড়, টাউন হল ময়দান ও মতির চায়ের দোকানে বসে মাসোহারার টাকা লেন-দেন করতে দেখা যায়।
সুত্র আরও জানায়, ওই সকল মাদক বিক্রেতাদের নামে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। তার মধ্যে সাইফুলের নামে ৪ টি, হাফিজ মরার নামে ৩ টি, সেকেন্দারের নামে ২ টি, সেলিমের নামে ২ টি, খোকনের নামে ২ টি, লুৎফরের নামে ২ টি, খুরশিদার নামে একটি, রানীর নামে ২ টি, বাদশার নামে ২ টি, জাফরের নামে ৮ টি, শরীফের নামে ৪ টি, মোহাম্মদ আলীর নামে ৪ টি, ছোট জয়নালের নামে একটি, বড় জয়নালের নামে ৪ টি মামলা রয়েছে।
এছাড়াও চাঁচড়া, ডালমিল এলাকা, বাবলাতলা, মন্ডলগাতি, খোলাডাঙ্গা, ধর্মতলা, পালবাড়ি, পুরাতন কসবা, লোন অফিস পাড়া, ষষ্টিতলা, রেলস্টেশন, শংকরপুর, রেলগেট, মুজিবসড়ক, জেসটাওয়ার পাড়া, বারান্দীপাড়া, নীলগঞ্জ, ঝুমঝুমপুর, উপশহর, ঘোপ জেল রোড, বেজপাড়া আনছার ক্যাম্প এলাকা, আরএন রোড, খড়কি, কারবালা এলাকায় ইয়াবা বিস্তার লাভ করেছে।
শহরের একাধিক স্থানে ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বেজপাড়ার সিন্ডিকেট চালাচ্ছে সোহরাব, চাদর, সনু, হিরা, রাজু, পেঁচো, ইমরান, রিয়াজ, সাদেক দারোগা মোড়ের আরিফসহ কয়েকজন। তালতলা মোড়ে অপু ও কাশেম নামে মাদক ব্যবসায়ী লোকজন রেখে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। যশোরের চিহ্ণিত মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে মূলহোতাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অথর্-বাণিজ্যের অভিযোগ। যে কারনে গোটা যশোর মাদক সম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। শহরের অলিতে গলিতে প্রতিদিন হাজার মাদক বিক্রেতা বীরদর্পে কোতয়ালি পুলিশের সাথে চুক্তিমাফিক মাসোহারা দিয়ে কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।
অপর সুত্র জানিয়েছে, পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা ও সদস্যদের ম্যানেজ করে শহর ও শহর তলীর প্রায় শতাধিক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে মাদকসম্রাট বারান্দী পাড়া এলাকার তালেব, রায় পাড়ার সোনিয়া, লুৎফর, রেলগেট চাঁচড়া রায় পাড়ার নুর হোসেনের পুত্র খোকন হাওলাদার।
মোহাম্মদ আলী, জাফর, হোসেন, মামুন, দেলোযার হোসেন দিলা, তার মেয়ে রানী, জামাই বাদশা, সেকেন্দার, লুৎফর, খোকন ও সেলিম অন্যতম। মাদক সম্রাটরা, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর ও পুলিশের মাসে নূন্যতম দু’হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকে। যার ফলে অভিযান শুরু হলে তাদেরকে মোবাইলের মাধ্যমে সতর্কবাণী জানিয়ে দেয়া হয়। যাতে করে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকরা অভিযানে গিয়ে তাদের কোন চিহ্ন পযর্ন্ত পাননা।
হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, মদ এমনকি তাঁড়ী বিক্রেতার নিকট থেকে পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্ম-কর্তারা সপ্তাহে ও মাসে টাকা নেয়ায় মাদক বিক্রি বন্ধ কখনও সম্ভব নয় বলে যশোরের সচেতন মহল মনে করেন।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন