যক্ষ্মারোগের চিকিৎসায় ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে মাগুরায় কর্মরত ব্র্যাকের স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১০ বছরে জেলার প্রায় ৫
ব্র্যাকের স্বাস্থ্যসেবিকা মাগুরা সদর উপজেলার বারাশিয়া মধ্যপাড়ার মরিয়ম বেগম জানান, যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে একজন স্বাস্থ্যসেবিকা হিসেবে তিনি নিজ এলাকায় ২ বছর ধরে কর্মরত। গত ২ বছরে বারাশিয়া গ্রামের আসমা বেগম, আনোয়ারা বেগম, নাজমা বেগম, ছুটু বেগম ও আনোয়ারা পারভীনকে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস ধরে ডটস পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিয়ে সম্পূর্ণরূপে যক্ষ্মা মুক্ত করেছেন। বর্তমানে একই এলাকার ওয়াদুদ মোল্যা মরিয়ম বেগমের তত্ত্বাবধানে ২ মাস ধরে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। যক্ষ্মা রোগী ওয়াদুদ মোল্যা বলেন, প্রথমে তিনি মরিয়ম বেগমের কথায় গুরুত্ব দেননি। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পর যখন জেনেছেন তার যক্ষ্মা হয়েছে, তখন থেকেই তার অধীন চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিন মরিয়ম বেগম নিজে এসে তাকে ওষুধ খাইয়ে যান। এখন তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠছেন।
যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা বিষয়ে কথা হয় সদর উপজেলার বগিয়া গ্রামের অন্য স্বাস্থ্যসেবিকা আছমা বেগমের সঙ্গে। বর্তমানে তার অধীন চিকিৎসা নিচ্ছেন একই এলাকার ফরিদা বেগম নামে এক গৃহবধূ। ২ মাস আগে তার শরীরে ফুসফুসের বাইরে যক্ষ্মা ধরা পড়েছে। ফরিদা বেগম বলেন, আছমা বেগমের অধীন চিকিৎসা নিয়ে তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন।
সদরের আলোকদিয়া গ্রামের অন্য স্বাস্থ্যসেবিকা মর্জিনা বেগম জানান, তার অধীন একই এলাকার রাধানাথ বিশ্বাস ২ মাস ধরে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার ফুসফুসে যক্ষ্মা ধরা পড়েছে। রাধানাথ বিশ্বাস জানান, সাধারণ কাশি হিসেবে বিষয়টি ধরে নিয়ে তিনি প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসা নেন। পরে স্বাস্থ্যসেবিকা তাকে ব্র্যাকে নিয়ে কফ পরীক্ষা করালে যক্ষ্মা ধরা পড়ে। বর্তমানে বেশ সুস্থতা অনুভব করছেন তিনি। ব্র্যাক সব চিকিৎসাই দিচ্ছেন বিনামূল্যে। ৬ মাসের ধারাবাহিক চিকিৎসায় যক্ষ্মা থেকে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করেছেন সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের নিরঞ্জন কুমার সরকার।
ব্র্যাকের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বিষয়ে ব্র্যাক স্বাস্থ্য বিভাগ মাগুরা সিনিয়র জেলা ব্যবস্থাপক শেখ আজমল হোসেন ও শাহজাহান সিরাজ জানান, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় ২০০৪ সাল থেকে মাগুরায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে ব্র্যাক। এ পর্যন্ত ৫ হাজার ২২৩ জন যক্ষ্মা পজিটিভ রোগীকে চিকিৎসার আওতায় এনেছে ব্র্যাক। তন্মধ্যে ৪ হাজার ৮২৩ জন রোগী সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করেছেন। জেলায় এ মহৎকাজে ১৬৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রতি ১৫০টি থানার জন্য ১ জন হিসেবে ১ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্যসেবিকা কাজ করছেন। বর্তমানে তাদের অধীন ৫২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যক্ষ্মা রোগীদের আরোগ্যের ক্ষেত্রে ডটস পদ্ধতির চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্যসেবিকা, কর্মী ও কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যক্ষ্মা রোগের বিষয়ে গোটা জেলায় ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে উঠেছে। এখন ৩ সপ্তাহের বেশি কাশি হলেই মানুষ ব্র্যাক স্বাস্থ্যসেবিকাদের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ায় এখন জেলায় যক্ষ্মার মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকলে শুধু মাগুরা জেলা নয়, শিগগির গোটা দেশ শতভাগভাবে যক্ষ্মামুক্ত হবে।
হাজার যক্ষ্মা রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে নিয়োজিত ১ হাজার ২১৭ স্বাস্থ্যসেবিকাসহ ব্র্যাক মাগুরার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলিষ্ঠ তৎপরতায় এ সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন