মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতিনীতি পালন শেষে শবদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার পর চিতায় তোলার পূর্বেই অলৌকিকভাবে
নড়ে ওঠেন এক বৃদ্ধ। এরপর তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টার জন্য শুরু হয় দৌঁড় ঝাঁপ। একঘণ্টা পর আবারো ঠান্ডা হয়ে যায় দেহ। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মোরাবরকপুর শ্মশানে উৎসুক জনতার ঢল নামে।
মোবারকপুর গ্রামের রঞ্জিত রায় ও গণেশ রায় জানান, তাদের বাবা সূর্যকান্ত রায় (৬৫)  তিন মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সেখান থেকে শরীরের একপাশে পক্ষাঘাত দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারতেন না তিনি। বৃহষ্পতিবার বিকেলে পিসিমা নগরবাসি হালদারের মৃত্যুতে বাবা আরো বিমর্ষ হয়ে পড়েন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মোবারকপুর শ্মশানে পিসিমার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর বাবা আবোরো হৃদরোগে আক্রান্ত হন। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে গ্রাম ডাক্তার হাজরা পদ বিশ্বাস তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তারা আরো জানান, আত্মীয় স্বজনদের খবর দেওয়ার পর ধর্মীয় রীতিনীতি পালন শেষে রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাবার মৃতদেহ মোবারকপুর শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। আটটার দিকে মৃতদেহ স্নান করানোর পর চিতায় তোলার আগেই মরদেহে প্রানের স্পন্দন অনুভব করেন গ্রামের প্রভাষ হালদার ও বিশ্বনাথ হালদার। একপর্যায়ে ডাকা হয় গ্রাম ডাক্তার হাজরা পদ বিশ্বাসকে। তিনি নাড়ির গতি পেয়ে বাবার শরীরে স্যালাইন দেন। এরপর ডাকা হয় তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ ফরহাদ হোসেনকে। এ খবর পেয়ে এলাকার কয়েক’শ নারী, পুরুষ ও শিশু শ্মশানে জড়ো হয়। রাত ৯টার দিকে চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন এসে তাকে (সূর্যকান্ত) মৃত বলে ঘোষনা করেন। রাত ১২টার দিকে তাদের বাবার মরদেহ সৎকার করা হয়।
এ ব্যাপারে তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ ফরহাদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মোবারকপুর শ্মশানে যেয়ে তিনি সূর্যকান্ত রায়ের শরীরে স্যালাইন চলমান অবস্থায় দেখতে পান। তবে পরে ওই ব্যক্তি মারা গেছে মর্মে জানিয়ে তিনি ফিরে আসেন। নতুন করে বেঁচে ওঠার বিষয়টি তিনি স্বীকার না করেই বলেন রাইগারমোটিভস এর কারণে অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির দেহে তাপ অনুভূত হয়। যা’ চার ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে নেমে আসে।