যশোর সদর রেজিস্ট্রি অফিসে চলছে অনিয়ম দুর্নীতির মহোৎসব। উৎকোচ ছাড়া কোন
কাজ হচ্ছে না এ অফিসে। জমি রেজিস্ট্রি, নামপত্তন, জমির শ্রেণী পত্তনসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দলিল লেখকদের দিতে হচ্ছে মোটা অংকের ঘুষ। জোরপূর্বক এসব টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। গতকাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন যশোর সদর রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দলিল লেখকদের অনিয়ম-দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি জানান, শুধু তিনি নিজে নয়, সর্বস্তরের মানুষ দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। অনিয়মের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী একদিকে যেমন সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। অপরদিকে, নিজের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে। লিখিত অভিযোগে মিলন বলেন, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়ন নুরু ঘুষ অনিয়মের নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। সাব-রেজিস্ট্রার কাজী রুহুল আমিন তাকেই এ কাজ তদারকির জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। কেউ জমি রেজিস্ট্রি করতে আসলে পিয়ন নুরুর সঙ্গে লাইন সাইজ (ঘুষের চুক্তি) করার জন্য বলা হয়। তার ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কর্মকতারা জমির রেজিস্ট্রি করেন না। আবার বেলা ১টার পরে জমি রেজিস্ট্রি করতে হলে লেট ফি হিসেবে ৫০০ টাকা করে অতিরিক্ত গুনতে হয়। এছাড়াও হিন্দু সমপ্রদায়ের হেবানামা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে গেজেট আসেনি অজুহাতে জমির মূল্য লাখ প্রতি ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক দলিল রেজিস্ট্রির জন্য ৫০০ টাকা ও দলিলে টিপ-স্বাক্ষরের জন্য ২০ টাকা করে উৎকোচ নেয়া হয়। এছাড়াও জমির শ্রেণী পরিবর্তনের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার কাজী রুহুল আমিন ও পিয়ন নুরু লাখ লাখ টাকা উৎকোচ আদায় করছে। দুর্নীতির মহোৎসব চললেও কেউ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ফলে সাধারণ মানুষ জমি কেনাবেচা করতে গিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও যশোর চেম্বার অব কর্মাসের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন অভিযোগ করেন, গত ৭ই আগস্ট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে সাব-রেজিস্টার কাজী রুহুল আমিন বলেন, পিয়ন নুরুর সঙ্গে লাইন সাইজ করেন। তার পর রেজিস্ট্রি করা হবে। এ সময় পিয়ন নুরু ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। নুরু সাফ জানিয়ে দেন, টাকা না দিলে জমি রেজিস্ট্র হবে না। এ বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারকে অবহিত করা হয়। এরপর সাব রেজিস্ট্রার আমাকে দেখা করতে বলেন। দেখা করতে গেলে তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। পরে মহুরি ও রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু স্টাফ এসে আমার ওপর চড়াও হয়। এ সময় ২ জন আহত হন। তিনি আরও বলেন, প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ রেজিস্ট্রি অফিসে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। জনগণের হয়রানি মুক্ত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে তিনি জানান।
0 মন্তব্যসমূহ