নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মধুমতি নদী ও কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাটবাজার, শিক্ষা লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা পয়েন্টে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বাঁধ মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসহ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১০ সহস্রাধিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের সদস্যরা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এদিকে, মধুমতি নদীর মঙ্গলহাটা পয়েন্টে স্রোতের গতি কমানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোডের নির্মিত সাতটি স্পার্কের মধ্যে চারটি ভেঙে গিয়েছে। এর ফলে মঙ্গলহাটা ও নওয়াগ্রামসহ তিনটি পয়েন্ট হুমকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, নড়াইল জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি ও নবগঙ্গা নদীতে পানির প্রবল চাপের কারণে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে মধুমতি নদীর লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের শিয়েরবর বাজারের প্রায় অর্ধেক, স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বাড়িঘর, মাকড়াইল-কাশিপুর, রামকান্তপুর, জয়পুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা, ধানাইড়, লোহাগড়া ইউনিয়নের তেতুলিয়া, মল্লিকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলহাটা, মহিষাপাড়া, চরকরফা, কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা, ধলইতলা, ইতনা ইউনিয়নের লংকারচর, ডিগ্রীর চর, লংকারচর, পাংখারচর এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
অপরদিকে, নবগঙ্গা নদীর ভাঙনে কালিয়া উপজেলায় কাঞ্চনপুর, বারইপাড়া খেয়াঘাট, হামিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রোপা আমনসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার।
কোটাকোল ইউনিয়নের ঘাঘা গ্রামের সেলিম বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার যদি আগের থেকে বালুর বস্তা ফেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে তার মতো আর কেউ নদীতে সর্বস্ব হারাতো না।
ঘাঘা গ্রামবাসী জানান, দুই বছর আগে ঘাঘা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এক মাস আগে বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে যায়। বর্তমানে নদীতে পানির প্রবল চাপের কারণে হু হু করে বিলে পানি ঢুকে কোটাকোল, ভাটপাড়া, ঘাঘা, ধলইতলা, ইতনা, মল্লিকপুর, মঙ্গলহাটা, করফা, রাধানগর, চরমলি-কপুরসহ ২০/৩০ গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এ পয়েন্টটি ভেঙে যাওয়ায় ঘাঘা গ্রামটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মল্লিকপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদুল হক জানান, পানিবৃদ্ধির কারণে নদী তীরবর্তী ও ঘাঘা পয়েন্ট ভেঙে পানি প্রবেশ করায় মঙ্গলহাটা, মল্লিকপুর, করফা, আতোষপাড়া, মহিষাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের কয়েশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না খাওয়াসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেলে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে এবং রাস্তার উপর আশ্রয় নিয়েছে। ঝুকিপূর্ণ মঙ্গলহাটা পয়েন্ট ভেঙে গেলে আশেপাশের আরও ৩/৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান।
ইতনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সিহানুক রহমান জানান, মধুমতির ভাঙনে ডিগ্রীর চর, লংকার চর ও পাংখার চর গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেবেকা খান বাংলানিউজকে জানান, নদী ভাঙনের খবর শুনে তিনি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড বড় ধরনের কোনো ব্যবস্থা না দিলে উপজেলা পরিষদ কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ক্ষুদ্র আকারে ব্যবস্থা নিলে কোনো কাজে আসবে না।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
নড়াইলের পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আলী হাওলাদার জানান, প্রবল পানির চাপে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বাজেট বরাদ্দের জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করা হবে।
প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ