নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তন এবং চৌধুরী তানভীর সিদ্দিকীকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে
গাজীপুর-১ আসনের বিএনপির নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ১৮টি ওয়ার্ড এবং কালিয়াকৈর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কালিয়াকৈর পৌরসভা নিয়ে গঠিত বর্তমান গাজীপুর-১ আসন, যা পূর্বে কালিয়াকৈর এবং শ্রীপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল। সামরিকশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আসন পুনর্বিন্যাসের সময় শ্রীপুর উপজেলাকে করা হয়েছে গাজীপুর-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
সরেজমিন গাজীপুর-১ আসন ঘুরে জানা যায়, জিয়া সরকারের সময় এই আসনটিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন বলিয়াদী স্টেইটের জমিদার চৌধুরী লাবিব উদ্দীন আহমেদ সিদ্দিকীর পুত্র চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হয়েছিলেন জিয়া সরকারের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। জমিদারপুত্র হওয়ায় তানভীরের সঙ্গে সাধারণ জনগণের কোনো রকম যোগাযোগ ছিল না বললেই চলে। যার ফলে এই আসনটিতে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট
রহমত আলীর নিকট এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আফম মোজাম্মেল হকের নিকট পরাজিত হন। এরপর নানা কারণে ২০১২ সালে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় সাবেক এই বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী চৌধুরী তানভীরকে। এসব কথা বলেছেন এই এলাকার বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী। এ ব্যাপারে তানভীর সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেন, জমিদারপুত্র তানভীর উক্ত আসনটিতে বারবার পরাজিত হওয়ায় আসনটি পুরোপুরি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। তবে এ সরকারের আমলে ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে এ রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, কালিয়াকৈর পৌরসভার বর্তমান মেয়র মজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কালিয়াকৈর পৌর নির্বাচনে কালিয়াকৈর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন শিকদারের ছোট ভাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত শক্তিশালী প্রার্থী শিকদার মোশারফের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মজিবুর রহমান।
তৃণমূলের নেতারা মন্তব্য করেছেন, যেহেতু তানভীরকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সেহেতু তার আর ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই এই আসনটিতে যদি মজিবুর রহমানকে মনোনয়ন দেয় দল, তাহলে হয়তো আসনটি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে মেয়র মজিবুরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ছাত্রজীবন থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। স্বচ্ছ রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে দেশ তথা জাতির উন্নয়নকল্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর থেকেই রাজনীতিতে অর্জিত জ্ঞান নিয়ে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে। নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সুসংগঠিত করেন তার নির্বাচনী এলাকার বিএনপিকে। তিনি আশাবাদী আসন্ন ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল যদি তাকে মনোনীত করে, তাহলে উক্ত আসনের জনগণ অবশ্যই বিএনপিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।
এছাড়াও উক্ত আসনটিতে আরো দু’জন রয়েছেন মনোনয়ন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, গাজীপুুুুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী সাইদুল আলম বাবুল এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, পৌর বিএনপির সভাপতি, বাংলাদেশ সড়ক শ্রমিক পরিবহন ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ন কবির খান। এ দু’জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উভয়ই উক্ত আসনের মনোনয়ন প্রার্থী। হুমায়ন বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে এই এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান হয়ে উঠেছে শক্তিশালী। তাই মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, বাবুল দলীয় মনোনয়ন চাইলেও তিনি জনগণ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয় কোনো ব্যক্তি নন। তার কারণ হলো: তিনি জন্মগতভাবে বিএনপির রাজনীতিতে আসেননি। উপরন্তু ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি অন্য দলের হয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করায় নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যকে প্রসারিত করতে তানভীর সিদ্দিকীর হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এছাড়াও এ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অসম্মানজনক ভোট পেয়ে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করেছেন তিনি। আর দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার আবদুস সালাম। এ অবস্থায় যদি কেন্দ্র বাবুলকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আবারো হয়তো এই আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বিএনপির। তবে বাবুলের দাবি তার জনপ্রিয়তা ঠিকই রয়েছে। উক্ত নির্বাচনে ভোট কারচুপি হওয়ার কারণে তিনি পরাজিত হয়েছেন। তাই তিনি যদি দলের মনোনয়ন পান আর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তিনি অবশ্যই বিজয়ী হবেন।শেফালী মিতু, গাজীপুর