শরিফুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবং গণতন্ত্র একসাথে চলতে পারে না। আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমের শত্র“। তারা যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই এর প্রমান রেখেছে। কাজেই গণমাধ্যমকে নিরাপদ করতে হলে, এ সরকারকে হঠানো ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।
তিনি সাংবাদিক ও গণমানুষকে রাজপথে নেমে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যত দ্রুত সম্ভব এ সরকারকে বিদায় দিতে হবে। তিনি শুক্রবার সকালে যশোরে এক সাংবাদিক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষনে এসব কথা বলেন। সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর এই গণসমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ।
রুহুল আমিন গাজী আরো বলেন, আওয়ামীলীগ কখনই স্বাধীন গণমাধ্যমের পক্ষে ছিল না। শেখ মুজিব ক্ষমতায় এসে চারটি বাদে সকল পত্রিকা বন্ধ করেছিলেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় এসে চারটি প্রত্রিকার বন্ধ করেছিলেন। আর এবার মিডিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। শ’ শ’ সাংবাদিককে বেকার করেছেন। তারা ক্ষমতায় এসে, আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বন্ধ করেছেন। এছাড়া সাহসী সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যা বিশ্বের ইতিহাসে নেই।
শওকত মাহমুদ, সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদসহ অসংখ্য সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের ও হত্যা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। একটি দলকে সাড়ে চার বছর রাজপথে নামতে দেয়া হচ্ছে না। যারা গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধী বলে আথ্যায়িত করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করে না। তারা কথাই কথাই যুদ্ধপরাধী ইস্যু তুলে দিনদার মুসলমানদের উপর মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে। কিন্তু তাদের যানা উচিত এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। তাই মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষনার পর হাজার হাজার মহিলা ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। শেখ হাসিনা, ইমরান খানদের মত নাস্তিক ব্লগারদের সাথে নিয়ে, দাড়ি, টুপি ওয়ালাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অথচ গাজীপুরের নির্বাচনে টুপি দাড়ি ওয়ালাদের সাথে নিয়ে ভোট চেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের জান মালের নিরাপত্তা এবং দেশে জাতি ও স্বাধীনতা সুসংহত করতে হলে সাংবাদিক জনতাকে বসে থাকলে চলবে না। এখনই তাদেরকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। তত্ত্ববধায়ক দাবি আজ শুধু রাজনৈতিক দাবি নয় এটা আজ অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক মেনিফেস্টোতে এটা বাতিলের কোন কথা ছিল না। অথচ ক্ষমতায় এসে তারা সেটি বাতিল করেছে।
তিনি বরেণ্য বুদ্ধিজীবী এ বি এম মুসা’র বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পাঁচ মিনিটে যদি বাকশাল কায়েম করা যায়, তাহলে তিন মিনিটে কেয়ারটেকার সরকার পাশ করা যাবে না কেন? তিনি বলেন, আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। হাতে সময় নাই। তাই এখনই সাংবাদিকসহ সকল গণতন্ত্রকামী মানুষকে তত্ত্ববধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসার আহবান জানান তিনি।
সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মহিদুল ইসলাম মন্টুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বাংলাদেশের দুটি প্রভাবশালী পরিবারের উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি পরিবার ক্ষমতায় এলে, তারা বিরোধী গণমাধ্যমকে গলা টিপে হত্যা করে। আর একটি পরিবার শত সমালোচনা ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের পরও গণমাধ্যমকে লালন করে। কাজেই গণমাধ্যমের শত্র“ ঐ পরিবার ও আওয়ামী লীগ। তারা ক্ষমতায় থাকলে কখনই মুক্ত, স্বাধীন সাংবাদিকতা বিকশিত হতে পারে না।
সমাবেশে বিএফইউজের সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রোকন বলেন, সরকারের পায়ের নীচে মাটি নেই। তাই তারা লম্ফঝম্ফ শুরু করেছে।
বিএফইউজের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও আমার দেশ পত্রিকার নগর সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ, তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র কড়া সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জানান দেয়, তারা মুক্ত গণমাধ্যমের শত্র“। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর শুধু দক্ষিণাঞ্চলেই ১৬জন সাংবাদিক খুন হন। এবার খুন হয়েছে ১৯জন। সারাদেশে দেড় হাজার পত্রিকার ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করা হয়েছে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল কবীর নান্টু, যশোর পৌরসভার মেয়র মারুফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবু, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম প্রমুখ।
মুকুলের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত:
যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক রানার পত্রিকার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুলের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসক্লাব ও দুটি সাংবাদিক ইউনিয়ন, টিভি জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন, ফটো জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন, তার স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পণ, মাজার জিয়ারত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। এসব কর্মসূচিতে বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব শওকত মাহমুদসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন।#

ছবি ক্যাপশান : যশোরে সাংবাদিক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।


Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন