মাগুরা জেলায় চার উপজেলায় অবস্থিত ই-সেবা কেন্দ্রের সুবিধা ভোগ করছে জেলার সকল স্তরের প্রায় দু'লক্ষাধিক
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা ই-সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ার পর থেকে জনসাধারণ ই-সেবা কেন্দ্র থেকে সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারছে। জমির পর্চার নকল তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের আবেদন করতে পারছেন। এ ছাড়া আবেদনকারী দাখিলকৃত আবেদনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সর্ম্পকে জানতে পারছেন। বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ই-সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ার পর জমির পর্চার নকলের জন্য মানুষকে এখন আর দিনের পর দিন রেকর্ড রুমে ঘুরতে হচ্ছে না। ই-সেবা কেন্দ্র থেকে এখন জমির পরচার নকলের আবেদন দাখিল ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা গ্রহণ করতে পারছেন। আর এস,এ এবং আর,এস পর্চার নকলের জন্য মাত্র কোর্ট ফি দিতে হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা। এছাড়া জমির সি,এস পর্চার জন্য মাত্র ২৪ টাকা কোর্ট ফি দিতে হচ্ছে। জমির পর্চার নকলের জন্য আবেদন দাখিলের সবর্োচ্চ ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নকল সরবরাহ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল জেলা ই-সেবা কেন্দ্র চালু হওয়ার পর থেকে মে-২০১৩ পর্যন্ত জমির পর্চার নকল নেয়ার জন্য ৫২ হাজার ৪'শ ৫৬টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫১ হাজার ৬'শ ৭১ টি আবদেন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। জেলায় ডিজিটাল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার ৩৬টি ইউনিয়নে-'ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র' চালু করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার, স্কানার, প্রিন্টার ও ইন্টারনেট মডেম স্থাপন করা হয়েছে। যেখান থেকে ৭২ জন উদ্যোক্তা পরিচালকের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ কম্পিউটার প্রশিক্ষণগ্রহণসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পাচ্ছেন। আর এ কাজের মাধ্যমে ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্রে কর্মরত উদ্যোক্তা পরিচালকরা নিয়মিত উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। ২০১১ মালের মে মাসে জেলায় ৩৬টি ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র চালুর পর থেকে মে-২০১৩ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩০ জন নারী পুরুষ বিভিন্ন ধরনের সেবা পেয়েছেন। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে ৭২ জন উদ্যোক্তা পরিচালক আয় করেছেন মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৭'শ ৭ টাকা। জেলার শ্রীপুর, মহম্মদপুর, শালিখা ও মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদ অফিসে কমিউনিটি ই-সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে উপজেলার জনগণ ইন্টারনেট ব্রাউজিং, স্কাইপের মাধ্যমে বিদেশে কথা বলা, চাকুরির সন্ধান নেয়া, পাসপর্োট প্রেরণ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
এ ছাড়া তথ্য প্রযুক্তির সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সহযোগিতায় তথ্য প্রযুক্তিতে ছাত্র-ছাত্রীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে জেলার ৩০ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এ সব বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মডেম, স্কানার মেশিন ও প্রিন্টার সরবরাহ করা হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিটার শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয় সহযোগিতা প্রদান করছেন। এ ছাড়া জেলার ৪ উপজেলায় ৪টি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও মডেম দেয়া হয়েছে।
এ সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কম্পিটার ল্যাব থেকে শিক্ষার্থীরা কম্পিটারের উপর মৌলিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ই-মেইল চেক করে চিঠিপত্র গ্রহণ ও তা চাহিদামত শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করতে পারছেন। এ ছাড়া জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন ফরম পুরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচলানা করছেন। এর পাশাপাশি শ্রেণী কক্ষে কনটেন্ট তৈরি করে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদানের জন্য আইসিটি প্রকল্পের আওতায় জেলার ১৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ও ল্যাবটপসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ দেয়া হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে কনটেন্ট তৈরি করে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শেণী কক্ষে পাঠদানের কর্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার গুনগত মান বাড়েছে। এ ছাড়া জেলার ৭৪টি মাদরাসাকেও এ কর্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
জনসাধারণ। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের লক্ষ্যে যশোর জেলার পর দ্বিতীয় জেলা হিসেবে মাগুরা জেলায় ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ই-সেবা কেন্দ্রসহ প্রতিটি উপজেলা সদরে উপজেলা কমিউনিটি ই-সেবা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার ৩৬টি ইউনিয়নে-'ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র' চালু করা হয়েছে। এর পাশপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারিত হচ্ছে।

মুসাফির নজরুল, মাগুরা
সাম্প্রতিক সংবাদ সমূহ