যেকোনো মুহূর্তে সিরিয়ায় আমেরিকার হামলা।  সব রকমের প্রস্তুতি শেষ । প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে সিরিয়ান
বিদ্রোহীদের। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে রয়টার্স। আমেরিকান প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল
বিবিসিকে জানিয়েছেন, আমেরিকান বাহিনী তাদের সব রকমের প্রস্ততি শেষ করেছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা’র আদেশ পেলেই অভিযান শুরু হবে।  
তিনি বলেন, “যুদ্ধ করার জন্য আমরা ওই অঞ্চলে প্রস্তুত রয়েছি।এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ওবামা’র আদেশের অপেক্ষা।”
রয়টার্স জানায়, সোমবার তুরস্কের রাজধানী ইস্তামবুলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশ নেয় আমেরিকার কূটনীতিবিদ এবং সিরিয়ার বিদ্রোহী নেতারা। সেখানে বিদ্রোহীদের অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়।  
ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, সিরিয়ায় ক্রুজ মিসাইল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন এবং তার সহযোগী দেশগুলো। এরই মধ্যে ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে আমেরিকার ক্রুজ মিসাইল সমৃদ্ধ চারটি যুদ্ধজাহাজ স্থাপন করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।  
এদিকে আমেরিকার অপর মিত্র বৃটেনও সামরিক অভিযানের  জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে রেডিও তেহরান।
প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের মুখপাত্র মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, “সিরিয়া ইস্যুতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হোক না কেন তা নেয়া হবে কঠোর আন্তর্জাতিক বিধানের আওতায়।”
তিনি আরো দাবি করেন, “যেকোনো ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার পুরোপুরি নিন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। এ জাতীয় ঘটনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত একযোগে প্রতিক্রিয়া জানানো।”  
তবে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মুয়াল্লেম বলেছেন, পশ্চিমা সরকারগুলো যেসব অভিযোগ করছে তা মিথ্যা এবং ইসরায়েল ও আল-কায়েদার স্বার্থ পূরণের জন্যই এগুলো ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, তার দেশ জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের সাথে পুরোপুরি সহাযোগিতা করছে।
জাতিসংঘ অবশ্য জানিয়েছে যে তাদের অস্ত্র পরিদর্শকরা ওই আক্রমণের জায়গাটি দ্বিতীয়বার পরিদর্শনের কর্মসূচি একদিন পিছিয়ে দিয়েছে।
এর আগে রাশিয়া ও চীন উভয়েই সিরিয়ায় কোনো রকমের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবাণী জানিয়ে বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদকে পাশ কাটানোর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
এর পাশাপাশি ইসলামী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সম্পর্কিত ওয়েবসাইটগুলো বলছে, তাদের নেতা এবং ট্রেনিং ক্যাম্পগুলোও মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে আক্রান্ত হতে পারে এবং এ জন্য তাদের লোকদের সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এশিয়া এবং ইউরোপে শেয়ার বাজারে মূল্য পতন হয়েছে।
দুবাইয়ে স্টক মার্কেটে মূল্যসুচক ৭ শতাংশ পড়ে গেছে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারের ওপরে চলে গেছে।
Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন