যশোর-বেনাপোল আন্তর্জাতিক মহাসড়কের দু’পাশের শতবছর বয়সী ৭৫টি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া
জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, যশোরের জমিদার কালীপ্রসাদ রায় চৌধুরী ১৮৪২ সালে যশোর-বেনাপোল ৩৮ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে রোপণ করেন অসংখ্য রেন্ট্রি (শিশু) গাছ। ১৭১ বছর আগে লাগানো রেন্ট্রি গাছগুলো অনেক আগেই বিশাল আকৃতিতে রূপ নিয়েছে। এগুলো পথচারীদের ছায়াদানের জন্য রোপন করা হলেও সময়ের বিবর্তনে বিশাল আকৃতির গাছগুলো এখন যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো রাস্তার ওপর ভেঙে পড়লে পথচারীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি বাধাগ্রস্ত হবে যানবাহন চলাচল। বেশিরভাগ গাছের বড় বড় ডালপালা এখন রাস্তার ওপর এসে পড়েছে। একই সঙ্গে অনেক গাছের গুড়ির মধ্যে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় তা’ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সার্ভে করে ঝুঁকিপূর্ণ অন্তত ৭৫টি গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার আশরাফ হোসেন মঞ্জু জানান, যশোর-বোনপোল মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার অংশে রাস্তার দু’ধারে রয়েছে আড়াই হাজার রেন্ট্রি গাছ। গাছগুলোর আয়তন বেড়ে যাওয়ায় তা’ এখন মূল রাস্তার ওপর এসে পড়েছে। এতে সড়কের কোনো কোনো স্থানে একটি যানবাহন অপরটিকে ওভারটেক করতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে গাছের ডালপালা নিয়ে। গাছের মোটা মোটা ডাল আঁকাবাঁকা হয়ে রাস্তার ওপর আসায় মালবাহী ট্রাকগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। সার্ভেয়ার আশরাফ হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, অনেক পুরান হয়ে যাওয়ায় গাছের বিভিন্ন অংশ অন্তসারশূন্যে পরিণত হয়েছে। আবার কোনো কোনো গাছ শুকিয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে এগুলো সামান্য ঝড় বৃষ্টিতে রাস্তার ওপর ভেঙ্গে পড়ছে। এতে যানবাহন চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার অনেক গাছের সঙ্গে বাস-ট্রাকের ধাক্কা লাগার ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রতিনিধি এবং জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। এতে ৭৫টি রেন্ট্রি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দু’সপ্তাহ আগে এ প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক এ প্রতিবেদন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়া গেলে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কেটে ফেলা হবে।
হয়েছে। ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সড়কটি নিরাপদের জন্য খুব শিগগিরই এসব গাছ কেটে ফেলা হবে বলে জানা গেছে। রাস্তার ওপর হেলে যাওয়া ও গাছের ভিতের অংশে সৃষ্ট বড় বড় গর্তের জন্য বিপজ্জনক এমন গাছগুলো কাটার অনুমতি চেয়ে জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমতিও চেয়েছে। এদিকে শুক্রবার যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কেটে ফেলার তাগিদ দেন।
সাম্প্রতিক সংবাদ সমূহ