ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে এক ম্যাচে ৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের নাম ইতিহাসে
লিখিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ম্যাচটা বাদ দিলে আগে-পরে ব্যাটে-বলে খুব ভালো কাটেনি সময়টা। এর আগে কাউন্টিতেও এ বছর নিষ্প্রভ একটা সময় কেটেছে। এই মিশ্র অনুভূতি নিয়ে কাল দীর্ঘ ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে ঢাকায় ফিরে এলেন সাকিব আল হাসান।
সস্ত্রীক দেশের মাটিতে পা রেখে অবশ্য দারুণ মুগ্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেন ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে। সেই সঙ্গে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের নতুন পদ্ধতির দল বদল নিয়ে নিজের অপছন্দের কথা, শঙ্কার কথাও বললেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।
বিমানবন্দরে সাকিব আল হাসানের কথোপকথন—
ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগটা কেমন লাগল?
ভালো ছিল আয়োজনটা। মাঠের ক্রিকেট ভালো হয়েছে। ওদের আয়োজনও খুব ভালো ছিল। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। টুর্নামেন্ট তো বটেই; আবহটাই চমত্কার ছিল।
আমাদের বিপিএল বা এসব টুর্নামেন্টের থেকে ঠিক কোথায় আলাদা ছিল এটা?
ফরম্যাটে তো খুব একটা পার্থক্য ছিল না। ওদের আয়োজনটা যেভাবে হয়েছে, সেটাই ছিল আসলে দেখার বিষয়। এতো শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যাপার ছিল! এ জন্য খেলোয়াড়দের কাজটা খুব সহজ হয়ে গিয়েছিল।
বাংলাদেশ থেকে গিয়ে ওদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়নি?
ওদের অনেকের সাথে আগে থেকে পরিচয় ছিল। তাদের সঙ্গে আগে খেলেছিও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও ছিল। ফলে পরিচয়টা আগে থেকেই ছিল। এ জন্য খুব একটা সমস্যা হয়নি।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মূল্যায়নটা কী?
বোলিংটা অনেক ভালো হয়েছে। ব্যাটিংটা খুব একটা ভালো হয়নি। তবে এটা নিয়ে খুব চিন্তা করছি না।
ব্যাটিং নিয়ে একটু কম সিরিয়াস ছিলেন?
না, এমন কিছু না। ভালো করতে পারিনি আর কী।
অনেকে বলছেন, অতিরিক্ত শট খেলার প্রবণতার কারণে রান পাননি...
এতোকিছু আসলে আমি চিন্তা করিনি। এতো দ্রুত সময় কেটেছে। ইংল্যান্ডে গিয়েই টানা খেলা। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে একটার পর একটা ম্যাচ। ফলে আলাদা করে এসব নিয়ে চিন্তা করা বা কাজ করার সময়ই পাইনি।
আপনার ব্যাটে-বলে ভালো ফর্মটা তো জরুরী। ব্যাটে ভালো ফর্মে ফেরার জন্য কী বিশেষ কিছু করবেন?
আসলেই এসব নিয়ে এখন চিন্তা করছি না। একটু সময় নেবো। এখন কয়েকটা দিন ক্রিকেটের বাইরে থাকতে পারলে খুব ভালো হত। কিন্তু আবার প্রিমিয়ার লিগ তো দ্রুতই শুরু হচ্ছে। তারপরও সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।
প্রিমিয়ার লিগে তো আপনার জন্য একেবারেই নতুন দল কলাবাগানে খেলতে হবে। এটা কেমন লাগছে?
এটা আমি ভেবেই রেখেছিলাম যে, এমন একটা দলে হয়তো খেলতে হবে, যেটা চিন্তাও করিনি। তাই হয়েছে। কলাবাগানে আগে কখনো খেলিনি; এবার খেলবো। এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই যে—কলাবাগানে কেন খেলছি। আমি যেখানে খেলার সুযোগ পাবো, খেলবো। এ নিয়ে আমার খুব একটা সমস্যা নয়।
এই যে দলবদলের পরিবর্তে 'প্লেয়ার বাই চয়েজ' প্রক্রিয়ায় আপনাদের বিভিন্ন দলে নেয়া হল; এই পদ্ধতিটা কেমন লাগছে?
মোটেও ভালো না। আমার কাছে এই সিস্টেম কখনোই পছন্দ হয়নি। আমার মনে হয় যে সিস্টেমটা ছিল, ওটা খুবই ভালো ছিল। আমি জানি না, ঠিক কী কারণে এটা চেঞ্জ হল!
বিপিএলে প্রায় একইরকমভাবে আপনাদের নিলাম হয়েছিল। পরে পাওনা নিয়ে খুব জটিলতা হয়েছে। এখানে কী সেই শঙ্কা আছে?
অবশ্যই। শঙ্কা না, আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে, তাই হবে।
আপনাদের দল বেছে নেয়ার সুযোগ নষ্ট হল, পাওনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ নেই; এই পদ্ধতি মন থেকে মেনে নিচ্ছেন?
এখন তো আসলে কিছু করার নেই। বোর্ড মনে করেছে এভাবে করতে হবে, করেছে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এটা ভালো কিছু নয়। আমাকে নিজের মত হল, আমার এটা পছন্দ না।
ভবিষ্যতে এরকম দলবদল হলে আপনারা কী করবেন?
আমার মনে হয় না, এটা চলবে। কোনো খেলোয়াড় স্থায়ীভাবে এটা মেনে নেবে না। এ বছর হয়তো অনেক সমস্যার কারণে এভাবে চলছে। আমার মনে হয় না, এভাবে আর এরপর এটা চলবে।
আরো সংবাদ পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ