
ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, কোনো খুনি কাউকে খুন করে দেহ এভাবে কেমিক্যাল দিয়ে সংরক্ষণ করবে না। এমনকি কেমিক্যাল ডি-কম্পোজ করা অংশগুলো এমনভাবে কাটা হয়েছে যে তা মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার জন্যই ব্যবহার হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার কঙ্কালগুলো উদ্ধারের পর তা ময়না তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আজ (রবিবার) মেডিক্যাল বোর্ডে ময়না তদন্ত ও নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
যাত্রাবাড়ি থানার ওসি (তদন্ত) অবণী শঙ্কর কর জানান, কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এসআই জসীম উদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল মাতুয়াইলে সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং এলাকায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছেন। ডাম্পিংয়ের দায়িত্বরত ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) সহকারী প্রকৌশলী এ এইচ এম আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, তদন্তের স্বার্থে টোকাই বা বহিরাগতদের ডাম্পিং এলাকায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এই কঙ্কালগুলো সেখানে ফেলানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। পুলিশ ধারণা করছে, মেডিক্যাল কলেজে পড়াশুনা শেষে ঐ কঙ্কালগুলো বর্জ্য পরিষ্কারে নিয়োজিতদের একটি স্থানে পুঁতে ফেলার কথা। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের স্থান না থাকায় সেগুলো অনুমতি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ফেলার স্থানে পুঁতে ফেলা হয়। কিন্তু ঐ মেডিক্যাল কলেজের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এসব কঙ্কাল পলিথিনের বস্তায় ভরে সিটি কর্পোরেশনে হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গাড়িতে তুলে দিয়েছে। হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গাড়ি মাতুয়াইলে ডাম্পিং এলাকায় ফেলে দেয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে মাতুয়াইলে ময়লা ফেলানোর স্থান থেকে কয়েকটি দেহের ২৯ টুকরা কঙ্কাল উদ্ধার করে।
0 মন্তব্যসমূহ