তাদের
ওই স্থানে জমি ছিল ৪ বিঘা। তার মধ্যে ২ বিঘা সওজ অধিগ্রহণ করেছেন। বাকি
দুই বিঘাও এবার অধিগ্রহণের পথে। জমির মালিকদের বক্তব্য তাদের এই জমি তিন
ফসলী। এই জমিতে চাষাবাদ করেই তারা বেঁচে আছেন। এখন তাদের বলা হয়েছে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। এখানে বিজিবি’র
ব্যাটেলিয়ার হেড কোয়ার্টার প্রতিষ্ঠা হবে। কৃষকদের দাবি এই জমি হাতছাড়া হয়ে
গেলে তারা ভূমিহীন হয়ে যাবেন। পাশাপাশি পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসবেন।
প্রসঙ্গত,
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার হাট-খালিশপুর বাজারের পাশে হাট-খালিশপুর মৌজায়
বিজিবি’র ব্যাটেলিয়ান হেড কোয়ার্টার নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন সরকার।
মোট ২৫ একর জমির প্রয়োজন এই হেড কোয়ার্টার নির্মাণে। ওই স্থানে সড়ক ও জনপথ
বিভাগের ইট ভাটার ১১ দশমিক ৭ একর জমি রয়েছে। যা ওই এলাকার কৃষকদের কাছ
থেকে ইতিপূর্বে অধিগ্রহণ করা। বাকি প্রায় ১৪ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া
রয়েছে।
ওই
এলাকার কৃষকরা জানান, তাদের তিন ফসলী জমি অধিগ্রহনের উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার।
ইতোমধ্যে স্থান পরিদর্শন করেছেন বিজিবি’র উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সার্ভে করেছেন স্থানীয় ভুমি অফিসের কর্মকর্তারা। তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে
বিজিবি ক্যাম্পের কারণে এই জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। কৃষক আমিরুল ইসলাম
জানান, হাট-খালিশপুর মৌজায় খালিশপুর বাজার প্রতিষ্ঠিত। মোট জমির সিংহ ভাগ
চলে গেছে বাজারের প্রয়োজনে। বর্তমানে ৮০ থেকে ৮৫ বিঘা জমি আছে চাষযোগ্য।
তাদের গ্রামে প্রায় ৫ হাজার লোকসংখ্যা। যারা এই জমি চাষের আয়ে বেঁচে আছেন।
পাশাপাশি কিছু মানুষ বাজারে নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
আরেক
কৃষক কামাল হোসেন উদ্দিন জানান, হাইওয়ে সড়কের পাশে তাদের এই কৃষি জমি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে টুকু জায়গা অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে
৭/৮ টি পরিবার ভুমিহীন হয়ে যাবে। আর প্রায় ৪০ জন কৃষক পরিবার তাদের
চাষযোগ্য জমি হারাবে। যার কারণে অনেকের পথে বসতে হবে। ওই এলাকার বাসিন্দা
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কামালুজ্জামান জানান, বিষয়টি নিয়ে
ইতোমধ্যে তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ
করেন, আইন আছে ফসলী জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। অথচ তাদের এলাকার এই তিন
ফসলী জমি অধিগ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, যে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে সেখানে
আমন, আউশ ধানের পাশাপাশি একটি শষ্যের চাষ হয়। এলাকার কৃষকদের জমি কম হলেও
ফসল ভালো হওয়ায় তারা বেঁচে আছেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহন করে নিলে তাদের পথে
বসতে হবে। তারও কিছু জমি এই অধিগ্রহণের আওতায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
মহেশপুর
উপজেলার এস.বি.কে ইউনিয়নের খালিশপুর ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল খালেক জানান,
খালিশপুর বাজার থেকে কিছুটা পূর্ব দিকে বজরাপুর মৌজায় সরকারের ৭ একর খাস
জমিসহ বেশ কিছু পরিত্যক্ত জমি রয়েছে। সেখানে এই ব্যাটেলিয়ান হের্ড
কোয়ার্টার হলে কালীগঞ্জ-জীবননগর হাইওয়ে সড়কের ধারে হবে। তাছাড়া ওই স্থানটি
একটি অন্ধকার এলাকা। প্রায়ই এখানে ডাকাতি সংঘঠিত হয়। পথচারী, পরিবহন
যাত্রীরা তাদের সর্বস্ব খোয়ান। ওই স্থানে ক্যাম্প হলে ডাকাতিও বন্ধ হতো,
অন্ধকার জায়গাটিও আলোকিত হতো। সবচেয়ে বড় কথা কৃষকের তিন ফসলি জমি নষ্ট হতো
না।
এ
ব্যাপারে বজরাপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিবর রহমান জানান, কৃষকের তিন ফসলি জমি
নষ্ট না করে তাদের এলাকার পরিত্যক্ত জমিতে করলে সবচেয়ে ভালো হয়। তারাও চান
বিজিবি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করে কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট না করে বজরাপুর
মৌজার ওই জমিতে করবেন।
এ
ব্যাপারে বিজিবি’র চুয়াডাঙ্গাস্থ ৬ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লেঃ কঃ গাজী
আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। বিজিবি’র হেড কোয়ার্টারের
সিদ্ধান্ত ওই স্থানে ব্যাটেলিয়ান হেড কোয়ার্টার হবে। কৃষকরা অনেক কথা বলবে,
অনেকের অনেক সমস্যা থকাতে পারে। কিন্তু সরকারের প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ
করতে হবে।
আরো সংবাদ পড়ুন

0 মন্তব্যসমূহ