বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নারীবাদী সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরে আনতে চান তার বন্ধুরা। আর এ করণে ‘তসলিমা পক্ষ’ এর ব্যানারে তারা রাস্তায় নেমেছেন।

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় থেকে তিনি তার লেখার জন্য হুমকির মুখে দেশ ছাড়েন। তসলিমা সুইডেনের নাগরিক হলেও বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লীতে বাস করছেন। তবে দেশে ফেরার জন্য তিনিও অনেক চেষ্টা করছেন।

এদিকে রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তসলিমা নাসরিনের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে একটি মানববন্ধন করে তার বন্ধু ও ভক্তরা। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গীতি আর নাসরিন ও কাবেরী গায়েন, নারীনেত্রী ফৌজিয়া খন্দকার ইভা ও শিপ্রা বোস, কবি রওশন ঝুনু, অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা, দিবাকর সরকার, লাভলী ইয়াসমিন, আশা মণি, শ্রাবণী প্রকাশনীর প্রকাশক রবীন আহসান, রুদ্র মোহাম্মদ, সাইফুল, আতিকুর রুবেল প্রমুখ।

মানববন্ধনে তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরে আনাসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- অনতিবিলম্বে তসলিমার পূর্ণঅধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং তার দেশে ফেরার সবরকম আইনি বাধা তুলে নেয়া; তার বিরুদ্ধে করার সব মামলা তুলে নেয়া; লেখক, সাংবাদিক, ব্লগারসহ সব নাগরিকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা; ধর্মীয় মৌলবাদসহ সংবিধানবিরোধী সব রাজনৈতিক, সামাজিক গোষ্ঠীকে আইন করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। ছাত্রজীবনে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে কবি হিসেবে তসলিমা নাসরিনের পরিচিতি ঘটতে থাকে। নির্বাসন জীবনে তসলিমা লেখালিখিকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিদ্রোহী নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ইসলামের সমালোচনার জন্য বিশ্বব্যাপী তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালে মামলায় জড়িয়ে পড়ে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।

স্বীয় জন্মভূমি বাংলাদেশ ত্যাগের পর তিনি প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় ইসলামী ধর্মগুরুদের আপত্তি ও মৌলবাদীদের প্রাণনাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে তাকে কলকাতা ত্যাগ করতে হয়।

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...
আরো সংবাদ পড়ুন খবর