পুরোনাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান। আর নড়াইলবাসীর কাছে পরিচিত ‘লাল মিয়া’ হিসেবে।
তবে এস এম সুলতান নামেই সমধিক পরিচিত তিনি। চিত্রশিল্পে খ্যাতি তার বিশ্বজোড়া।
গুণী এ চিত্রশিল্পীর ৮৮তম জন্মদিন আজ। এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মেছের আলী। মা মাজু বিবি।
দরিদ্রতার মধ্যেও ১৯২৮ সালে সুলতান নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে লেখাপড়া শুরু করেন। লেখাপড়ার অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে ছবি আঁকার হাতেখড়ি তার।
এ সময় সুলতানের আঁকা ছবি স্থানীয় জমিদারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নড়াইলের জমিদার ব্যারিস্টার ধীরেন রায়ের আমন্ত্রণে জমিদার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ১৯৩৩ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে আসেন। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র সুলতান শ্যামাপ্রসাদের একটি পোট্রেট আঁকেন। সুলতানের আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হন শ্যামাপ্রসাদসহ অন্যরা। উৎসাহ পেয়ে ছবি আঁকায় আরো মনোযোগী হন সুলতান।
এরপর লেখাপড়া ছেড়ে ১৯৩৮ সালে কলকাতায় গিয়ে ছবি আঁকা ও জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। সে সময় চিত্রসমালোচক শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে তার পরিচয় হয়। সোহরাওয়ার্দীর সুপারিশে অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪১ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের লাহোরে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতিমা জিন্নাহ সুলতানের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। ১৯৫০ সালে চিত্রশিল্পীদের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমেরিকা যান এস এম সুলতান। এরপর ইউরোপের বেশ কয়েকটি একক ও যৌথ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। পাবলো পিকাসো, সালভেদর দালি, পল কিসহ খ্যাতিমান শিল্পীদের ছবির পাশে এশিয়ার একমাত্র শিল্পী হিসেবে এস এম সুলতানের ছবি বিভিন্ন প্রদর্শনীতে স্থান পায়।
১৯৫৩ সালে জন্মভূমি নড়াইলে ফিরে আসেন। শিশু-কিশোরদের সাধারণ শিার পাশাপাশি চারুকলা শিার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন তিনটি স্কুল। আবার জন্মভূমি (নড়াইল) ছেড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে-ফিরেন। ১৯৮০ সালে সুলতান নড়াইলের কুড়িগ্রামে শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। ১৯৯২ সালে ৯ লাখ মতান্তরে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট ‘ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ’ নামে একটি দোতলা নৌকা তৈরি করিয়েছিলেন। সুলতানের শিল্পকর্মের বিষয় ছিলÑ বাংলার কৃষক, জেলে, তাঁতি কামার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড়, জঙ্গল, সবুজ প্রান্তর তথা খেটে খাওয়া পেশিবহুল মানুষগুলো।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এস এম সুলতান।