তারুণ্যের উচ্ছলতা আর আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে গতকাল প্রথিতযশা সাংবাদিক শফিক রেহমানের জন্মদিন পালিত
হয়েছে। নিজ থেকে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন না করলেও দিনভর ভক্ত-অনুরাগীদের ভিড় ছিল তার ইস্কাটনের বাসায়। একাধিক তরুণ গ্রুপ মিলে কেক কেটে, লাল গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে এবং গানের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে প্রিয় মানুষটির জন্মদিন।
‘এদেশে সামাজিকভাবে ভালোবাসার জয়গান আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে ভালোবাসার ছোঁয়া দেয়াই আমার দর্শন’—জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে আসা ভক্তদের উদ্দেশে বললেন শফিক রেহমান। তিনি মনে করেন, ‘দেশটা দুঃখে ভরা, তাই সবাই মিলে আনন্দ করা হোক।’
প্রথিতযশা এ সাংবাদিকের জন্মদিনে নিউ ইস্কাটনের বাসভবনে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী ও তরুণ-তরুণী। প্রিয় মানুষটির বাড়িতে নিজেরাই ফুল, কেক ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হন অনেকে। ডেমোক্র্যাসি ওয়াচ, লাল গোলাপ অনুষ্ঠান ও জি-৯-এর সদস্যরা দিনভর আয়োজন করেন নানা অনুষ্ঠানের।বগুড়া শহরে জন্মেছিলেন শফিক রেহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে গিয়েছিলেন লন্ডনে। সেখানে চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট ডিগ্রি লাভ করেন। ব্রিটেনের প্রথম চারটি বেসরকারি রেডিওর একটি স্পেকট্রামের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সে সুবাদে রেডিওতে সাংবাদিকতা করেছেন অনেক দিন। ছিলেন বিবিসিতেও। বাংলাদেশে এসে গড়ে তুলেছিলেন সাপ্তাহিক যায়যায়দিন। এরশাদীয় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে একাই লড়েছেন দীর্ঘ সময়। পরে শফিক রেহমানের নেতৃত্বে যায়যায়দিন দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হয়।
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শফিক রেহমানের কাছ থেকে তার ভাষায় ‘ছিনতাই হয়ে যায় যায়যায়দিন।’ দেশে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনীতি দেখার ইচ্ছে শফিক রেহমানের। এখন তিনি সম্পাদনা করছেন ‘মৌচাকে ঢিল’ নামে আরেকটি জনপ্রিয় পত্রিকা।