প্রকাশ্য দিবালোকে তথাকথিত ব্যবসায়ীর গুলিতে এক বাসচালক নিহত হবার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তাল ছিল সমগ্র গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া এলাকা। বাসচালক নিজাম উদ্দিন (২৫) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দফায় দফায় রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে শ্রমিকরা বিৰোভ মিছিল-সমাবেশ এবং ভাংচুর চালায়। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে গুলি করে পালানোর সময় পিস্তলসহ হত্যাকারী বলে অভিযুক্ত জুম্মন এবং তার ভাই খোকনকে আটক করে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর অজ্ঞাত এক হত্যাকারী মেটিরসাইকেলযোগে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়। পুরো এলাকায় এ সময় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিআরটিসি বাসের চেকার বেলায়েত হোসেন জানান, রিক্সাযাত্রী খোকনের সঙ্গে বাসচালক ও হেলপারের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। এরপর খোকন মোবাইলে খবর দিলে এলাকার প্রভাবশালী জুম্মন এসে গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয় নিজাম।
আপাত, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এ হত্যাকা- ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হলেও হত্যাকারীদের সঙ্গে ফুলবাড়িয়া স্ট্যান্ডটির নিয়ন্ত্রক শ্রেণীর দ্বন্দ্ব ছিল বলে তথ্য মিলেছে। এ ঘটনায় মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা যতদূর জেনেছি এ ঘটনায় বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।'
হতাকাণ্ডের দু'রকম বিবরণ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ প্রত্যৰদর্শী এবং পুলিশ সমর্থিত সূত্র মতে, সকাল সাড়ে ৬টার সময় ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১ এর সামনে এবং ফুলবাড়িয়ার বিআরটিসি কাউন্টারের বিপরীত সড়কের তিনমাথার সংযুক্তি স্থানে ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় ১০ সিদ্দিক বাজার এলাকার পস্নাস্টিক পাইপ ব্যাবসায়ী বলে পরিচিত খোকন রিঙ্াযোগে রমনা পার্কে যাচ্ছিলেন। তাঁর রিঙ্াটিকে ফুলবাড়িয়া টু নিউএয়ারপোর্ট রম্নটের ৩ নম্বর বাস বলে পরিচিত (ঢাকা মেট্রো-জ ১১-২২২২) একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে ৰিপ্ত হয়ে রিঙ্ারোহী খোকন নেমে পড়লে বাসের হেলপারের সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়। তিনি এ সময় হেলপারকে মারধর করলে বাসচালক নিজামসহ অন্যরা নেমে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় খোকনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। খোকন তখন মোবাইল ফোনে তার বড় ভাই রিয়াজ মোরশেদ জুম্মনকে ঘটনাটি জানালে ৬/৭ মিনিট পরই এক আরোহীসহ মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে জুম্মন উপস্থিত হয়। এ সময় খোকনকে উদ্ধার করতে গিয়ে জুম্মনের লাইসেন্স করা পিসত্মল দিয়ে হেলপার রাসেলকে উদ্দেশ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। রাসেল সরে যাওয়ায় একটি গুলি পেছনে দাঁড়ানো ঐ গাড়ির চালক নিজামউদ্দিনের গলায় বিদ্ধ হয়। এ ঘটনার পরই জুম্মন ও খোকনকে জনতা ধাওয়া করলে মোটরসাইকেল নিয়ে অন্যজন পালিয়ে যায়। উপস্থিত শ্রমিক-জনতা ছিনতাইকারী বলে তাদের ধাওয়া দেয়। আরও দু'রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হলেও দু'ভাই খোকন ও জুম্মন জনতার হাতে ধরা পড়ে, চলে উত্তম-মধ্যম। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করলে জুম্মনের কাছে এক রাউন্ড গুলি ভর্তি বিদেশী পিসত্মল পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর পরই বিৰুব্ধ শ্রমিকরা ফুলবাড়িয়া এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়। কয়েক দফা রাসত্মা বেরিকেড দিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে রাখে। গুলিসত্মান-ফুলবাড়িয়া, সদরঘাট থেকে গোলাপ শাহ (রহ:) মাজার পর্যনত্ম সড়কটিতে বেলা ২টা পর্যনত্ম এ অবস্থা চলে।
গুলিবিদ্ধ নিজামকে সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরম্নরী বিভাগে ভর্তি করা হয়। প্রচুর রক্তৰরণ এবং স্পাইনাল কর্ড ৰতিগ্রসত্ম হওয়ায় সকাল ১০টার কিছু পরে সে মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়ে। নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরিকারী শাহবাগ থানার এসআই এমদাদ জানান, নিহতের শরীরে অন্য কোন চিহ্ন নেই। কেবল গলায় গুলির একটিমাত্র ৰত চিহ্ন পাওয়া গেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, পিসত্মলটি জুম্মনের লাইসেন্সকৃত ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এ বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজনের পাশাপাশি হত্যাকা-ের পেছনে অন্যকোন ক্লু রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হেলপার রাসেল ও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানালেও তার কোন গুলি লাগার তথ্য তার কাছে নেই বলেও জানান। রাসেল ধসত্মাধসত্মিতে আহত হতে পারেন বলে মনত্মব্য করেন।
নিহত নিজামের বাবা মরহুম আব্দুল আজিজ, গ্রাম মাথাভাঙ্গা, থানা বটিয়াঘাটা জেলা খুলনা। ৭ ভাইবোনের মধ্যে সেজো নিজাম ঢাকায় তার বড় ভাই মিরপুর ১২ নং সেকশনের সি বস্নকের ২১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা আমির হোসেনের সঙ্গেই বসবাস করত। সদ্য বিবাহিত নিজাম রাখী নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে আনে মাত্র ক'মাস আগে। মাস সাতেক আগে বিয়ে হলেও তিন মাস আগে ঘটা করে বউ তুলে এনেছিল বলে ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে ক্রন্দনরত নিহতের বোন স্বপ্না জনকণ্ঠকে জানায়। স্বপ্না তার নির্দোষ ভাইয়ের হত্যাকা-ে জড়িতদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মিরও দাবি করেন। এই ঘটনায় নিহতের ভাই আমির হেসেন বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামরম্নল ইসলাম ঘটনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে জনকণ্ঠকে জানান, সকালে নিজামদের গাড়িটির সিরিয়ালই ছিল সবার আগে। সকাল ৬টার দিকে এয়ারপোর্ট যাবার জন্য যাত্রী ডাকতে থাকে হেলপার। এ সময় সকলকে তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠতে বলতে গিয়ে অভ্যাসবশত বাসযাত্রী জুম্মনের গায়ে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেবে বলে ওঠার তাগিদ দেয়। এ ঘটনায় গায়ে হাত দিয়েছে বলে ৰেপে যান জুম্মন। তিনি হেলপারকে গালমন্দ করার এক পর্যায়ে গলার টুঁটি চেপে ধরেন। এ সময় অন্য শ্রমিকরা এগিয়ে গিয়ে তাদের সহকমর্ীকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে সামান্য হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার পরই জুম্মন মোবাইলে ফোন করলে কিছুৰণ পরই মোটরসাইকেলযোগে দুই আরোহী এসে অস্ত্র বের করে গুলি করলে নিজাম গুলিবিদ্ধ হয়। মামলার এজাহারের বর্ণনাও অনেকটা কামরম্নল ইসলামের বক্তব্যের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে হেলপার রাসেলের সঙ্গে বাদানুবাদ হয় এক যাত্রীর। যার নাম পরে জুম্মন বলে জানা যায়। এ ঘটনার সময় বাসচালক নিজাম নিজেও একবার ছাড়িয়ে দেবার উদ্যোগ করেছিল। কিন্তু, জুম্মন মোবাইলে ফোন করে ডেকে আনলে মোটরসাইকেলে করে আসা এক ব্যক্তি রাসেলকে উদ্দেশ করে পিসত্মলের গুলি ছোড়ে। রাসেল বসে গেলে গুলিটি পেছনে থাকা নিজামের সরাসরি গলায় বিদ্ধ হয়। এর পরও রাসেলকে উদ্দেশ করে আরও ৩ রাউন্ড গুলি ছুড়লেও তার গায়ে লাগেনি। এরমধ্যেই শ্রমিকরা ধাওয়া করলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের মধ্যে পড়ে যায়। রাসত্মায় টহল ডিউটিরত বংশাল থানা পুলিশ গণপিটুনির হাত থেকে রৰার জন্য এগিয়ে এসে বহু কষ্টে দু'ভাইকে উদ্ধার করে ব্যবহৃত পিসত্মলসহ বংশাল থানায় নিয়ে যায়। বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারম্নক আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলটি বংশাল থানা এবং শাহবাগ থানার সংযোগস্থল। তিনি সংবাদ পেয়েই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পেঁৗছে অস্ত্রসহ দু'জনকে আটক করেন।
দুপুর দেড়টায় নিহতের মৃতদেহ ফুলবাড়িয়া স্ট্যান্ড এলাকায় আনা হলে সহকমর্ী এবং স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এ সময় পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হওয়া শুরম্ন করলে পুলিশ এবং পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দের হসত্মৰেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাদশা এ সময় খুনীদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মি নিশ্চিত না করলে প্রয়োজনে তারা আন্দোলনে যাবার আশ্বাস দিলে শানত্ম হয়ে আসে পরিবেশ। এক নজর শেষ দেখা শেষে নিজামের কর্মস্থল এই বাসস্ট্যান্ডের কমিউনিটি পুলিশ কন্ট্রোল রম্নমের সামনের রাসত্মায় পৌনে দুটায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মৃতদেহ নিহতের গ্রামের বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কে এই জুম্মন ॥ সিদ্দিকবাজার এলাকায় এখন যুবলীগের নেতা বলে পরিচয় দিলেও সে সব সময়ই সরকারী দলের সঙ্গেই ছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এই ফুলবাড়িয়া স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে মূলত তার এখানকার বাস নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল বলেও তথ্য মিলেছে। সিদ্দিকবাজারে পস্নাস্টিক পাইপের একাধিক দোকান থাকার পাশাপাশি গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার সঙ্গেও জুম্মন জড়িত ছিল। তার আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন এবং রাজধানীর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টিও এলাকায় ওপেন সিক্রেট। এ ঘটনার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক পান বিড়ির দোকানদার বলেন, এই ফুলবাড়িয়া এলাকার এক টুকরো জায়গাতেও বিনা ভাড়াতে কেউ ব্যবসা করতে পারে না। ঘটনা শুরম্নর সময় তিনি নিত্যদিনের মতো চাঁদাবাজদের ফ্যাসাদ বলেই ঘটনাটিকে মনে করেছিলেন। তবে,পুলিশী তদনত্মে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলেও তিনি মনত্মব্য করেন।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিআরটিসি বাসের চেকার বেলায়েত হোসেন জানান, রিক্সাযাত্রী খোকনের সঙ্গে বাসচালক ও হেলপারের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। এরপর খোকন মোবাইলে খবর দিলে এলাকার প্রভাবশালী জুম্মন এসে গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয় নিজাম।
আপাত, তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে এ হত্যাকা- ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হলেও হত্যাকারীদের সঙ্গে ফুলবাড়িয়া স্ট্যান্ডটির নিয়ন্ত্রক শ্রেণীর দ্বন্দ্ব ছিল বলে তথ্য মিলেছে। এ ঘটনায় মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা যতদূর জেনেছি এ ঘটনায় বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।'
হতাকাণ্ডের দু'রকম বিবরণ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ প্রত্যৰদর্শী এবং পুলিশ সমর্থিত সূত্র মতে, সকাল সাড়ে ৬টার সময় ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-১ এর সামনে এবং ফুলবাড়িয়ার বিআরটিসি কাউন্টারের বিপরীত সড়কের তিনমাথার সংযুক্তি স্থানে ঘটনার সূত্রপাত। এ সময় ১০ সিদ্দিক বাজার এলাকার পস্নাস্টিক পাইপ ব্যাবসায়ী বলে পরিচিত খোকন রিঙ্াযোগে রমনা পার্কে যাচ্ছিলেন। তাঁর রিঙ্াটিকে ফুলবাড়িয়া টু নিউএয়ারপোর্ট রম্নটের ৩ নম্বর বাস বলে পরিচিত (ঢাকা মেট্রো-জ ১১-২২২২) একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে ৰিপ্ত হয়ে রিঙ্ারোহী খোকন নেমে পড়লে বাসের হেলপারের সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়। তিনি এ সময় হেলপারকে মারধর করলে বাসচালক নিজামসহ অন্যরা নেমে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় খোকনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। খোকন তখন মোবাইল ফোনে তার বড় ভাই রিয়াজ মোরশেদ জুম্মনকে ঘটনাটি জানালে ৬/৭ মিনিট পরই এক আরোহীসহ মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে জুম্মন উপস্থিত হয়। এ সময় খোকনকে উদ্ধার করতে গিয়ে জুম্মনের লাইসেন্স করা পিসত্মল দিয়ে হেলপার রাসেলকে উদ্দেশ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। রাসেল সরে যাওয়ায় একটি গুলি পেছনে দাঁড়ানো ঐ গাড়ির চালক নিজামউদ্দিনের গলায় বিদ্ধ হয়। এ ঘটনার পরই জুম্মন ও খোকনকে জনতা ধাওয়া করলে মোটরসাইকেল নিয়ে অন্যজন পালিয়ে যায়। উপস্থিত শ্রমিক-জনতা ছিনতাইকারী বলে তাদের ধাওয়া দেয়। আরও দু'রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হলেও দু'ভাই খোকন ও জুম্মন জনতার হাতে ধরা পড়ে, চলে উত্তম-মধ্যম। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করলে জুম্মনের কাছে এক রাউন্ড গুলি ভর্তি বিদেশী পিসত্মল পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর পরই বিৰুব্ধ শ্রমিকরা ফুলবাড়িয়া এবং তার আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়। কয়েক দফা রাসত্মা বেরিকেড দিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে রাখে। গুলিসত্মান-ফুলবাড়িয়া, সদরঘাট থেকে গোলাপ শাহ (রহ:) মাজার পর্যনত্ম সড়কটিতে বেলা ২টা পর্যনত্ম এ অবস্থা চলে।
গুলিবিদ্ধ নিজামকে সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরম্নরী বিভাগে ভর্তি করা হয়। প্রচুর রক্তৰরণ এবং স্পাইনাল কর্ড ৰতিগ্রসত্ম হওয়ায় সকাল ১০টার কিছু পরে সে মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়ে। নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরিকারী শাহবাগ থানার এসআই এমদাদ জানান, নিহতের শরীরে অন্য কোন চিহ্ন নেই। কেবল গলায় গুলির একটিমাত্র ৰত চিহ্ন পাওয়া গেছে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, পিসত্মলটি জুম্মনের লাইসেন্সকৃত ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এ বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজনের পাশাপাশি হত্যাকা-ের পেছনে অন্যকোন ক্লু রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হেলপার রাসেল ও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানালেও তার কোন গুলি লাগার তথ্য তার কাছে নেই বলেও জানান। রাসেল ধসত্মাধসত্মিতে আহত হতে পারেন বলে মনত্মব্য করেন।
নিহত নিজামের বাবা মরহুম আব্দুল আজিজ, গ্রাম মাথাভাঙ্গা, থানা বটিয়াঘাটা জেলা খুলনা। ৭ ভাইবোনের মধ্যে সেজো নিজাম ঢাকায় তার বড় ভাই মিরপুর ১২ নং সেকশনের সি বস্নকের ২১ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা আমির হোসেনের সঙ্গেই বসবাস করত। সদ্য বিবাহিত নিজাম রাখী নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে আনে মাত্র ক'মাস আগে। মাস সাতেক আগে বিয়ে হলেও তিন মাস আগে ঘটা করে বউ তুলে এনেছিল বলে ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে ক্রন্দনরত নিহতের বোন স্বপ্না জনকণ্ঠকে জানায়। স্বপ্না তার নির্দোষ ভাইয়ের হত্যাকা-ে জড়িতদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মিরও দাবি করেন। এই ঘটনায় নিহতের ভাই আমির হেসেন বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামরম্নল ইসলাম ঘটনা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে জনকণ্ঠকে জানান, সকালে নিজামদের গাড়িটির সিরিয়ালই ছিল সবার আগে। সকাল ৬টার দিকে এয়ারপোর্ট যাবার জন্য যাত্রী ডাকতে থাকে হেলপার। এ সময় সকলকে তাড়াতাড়ি গাড়িতে উঠতে বলতে গিয়ে অভ্যাসবশত বাসযাত্রী জুম্মনের গায়ে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেবে বলে ওঠার তাগিদ দেয়। এ ঘটনায় গায়ে হাত দিয়েছে বলে ৰেপে যান জুম্মন। তিনি হেলপারকে গালমন্দ করার এক পর্যায়ে গলার টুঁটি চেপে ধরেন। এ সময় অন্য শ্রমিকরা এগিয়ে গিয়ে তাদের সহকমর্ীকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে সামান্য হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার পরই জুম্মন মোবাইলে ফোন করলে কিছুৰণ পরই মোটরসাইকেলযোগে দুই আরোহী এসে অস্ত্র বের করে গুলি করলে নিজাম গুলিবিদ্ধ হয়। মামলার এজাহারের বর্ণনাও অনেকটা কামরম্নল ইসলামের বক্তব্যের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে হেলপার রাসেলের সঙ্গে বাদানুবাদ হয় এক যাত্রীর। যার নাম পরে জুম্মন বলে জানা যায়। এ ঘটনার সময় বাসচালক নিজাম নিজেও একবার ছাড়িয়ে দেবার উদ্যোগ করেছিল। কিন্তু, জুম্মন মোবাইলে ফোন করে ডেকে আনলে মোটরসাইকেলে করে আসা এক ব্যক্তি রাসেলকে উদ্দেশ করে পিসত্মলের গুলি ছোড়ে। রাসেল বসে গেলে গুলিটি পেছনে থাকা নিজামের সরাসরি গলায় বিদ্ধ হয়। এর পরও রাসেলকে উদ্দেশ করে আরও ৩ রাউন্ড গুলি ছুড়লেও তার গায়ে লাগেনি। এরমধ্যেই শ্রমিকরা ধাওয়া করলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের মধ্যে পড়ে যায়। রাসত্মায় টহল ডিউটিরত বংশাল থানা পুলিশ গণপিটুনির হাত থেকে রৰার জন্য এগিয়ে এসে বহু কষ্টে দু'ভাইকে উদ্ধার করে ব্যবহৃত পিসত্মলসহ বংশাল থানায় নিয়ে যায়। বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারম্নক আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলটি বংশাল থানা এবং শাহবাগ থানার সংযোগস্থল। তিনি সংবাদ পেয়েই ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পেঁৗছে অস্ত্রসহ দু'জনকে আটক করেন।
দুপুর দেড়টায় নিহতের মৃতদেহ ফুলবাড়িয়া স্ট্যান্ড এলাকায় আনা হলে সহকমর্ী এবং স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এ সময় পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হওয়া শুরম্ন করলে পুলিশ এবং পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দের হসত্মৰেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বাদশা এ সময় খুনীদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মি নিশ্চিত না করলে প্রয়োজনে তারা আন্দোলনে যাবার আশ্বাস দিলে শানত্ম হয়ে আসে পরিবেশ। এক নজর শেষ দেখা শেষে নিজামের কর্মস্থল এই বাসস্ট্যান্ডের কমিউনিটি পুলিশ কন্ট্রোল রম্নমের সামনের রাসত্মায় পৌনে দুটায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মৃতদেহ নিহতের গ্রামের বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কে এই জুম্মন ॥ সিদ্দিকবাজার এলাকায় এখন যুবলীগের নেতা বলে পরিচয় দিলেও সে সব সময়ই সরকারী দলের সঙ্গেই ছিল বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এই ফুলবাড়িয়া স্ট্যান্ডের দখল নিয়ে মূলত তার এখানকার বাস নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল বলেও তথ্য মিলেছে। সিদ্দিকবাজারে পস্নাস্টিক পাইপের একাধিক দোকান থাকার পাশাপাশি গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার সঙ্গেও জুম্মন জড়িত ছিল। তার আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন এবং রাজধানীর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টিও এলাকায় ওপেন সিক্রেট। এ ঘটনার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক পান বিড়ির দোকানদার বলেন, এই ফুলবাড়িয়া এলাকার এক টুকরো জায়গাতেও বিনা ভাড়াতে কেউ ব্যবসা করতে পারে না। ঘটনা শুরম্নর সময় তিনি নিত্যদিনের মতো চাঁদাবাজদের ফ্যাসাদ বলেই ঘটনাটিকে মনে করেছিলেন। তবে,পুলিশী তদনত্মে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলেও তিনি মনত্মব্য করেন।