গরুর ট্রাক। চাকা ঘুরলেই চাঁদা। পুলিশ ও সার্জেন্ট বিটের নামে টাকা। আর দ্বিগুণ বাড়ছে গরুর দাম। তাই শতভাগ
লাভে বিক্রি করেও লোকসানের মুখে পড়ছেন গরু ব্যবসায়ীরা। গাবতলী গরুর হাট সরজমিনে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। গরু ব্যবসায়ী, ট্রাক চালক ও মালিক সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানী ও এর বাইরে গরু ব্যবসায়ীরা নীরব চাঁদাবাজির শিকার। পুলিশই এক নম্বর চাঁদাবাজ। পথে পথে কৌশলে নিচ্ছে চাঁদার টাকা। পুলিশের চাঁদাবাজির কারণেই রাজধানীর গরুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সাতক্ষীরা থেকে গাবতলী গরুর হাটে একটি গরু আনতে ১৫টি পয়েন্টে পুলিশ ও চাঁদাবাজদের টাকা দিতে হয়। গরুর গাড়ি লোড করার জন্য স্থানীয় দালালদের মেটাতে হয় চাহিদা। সেখান থেকে রওনা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরা-খুলনা রোড মোড়ে ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ দিতে হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। কলারোয়া পৌরসভা মোড়ে ট্রাক থামিয়ে নেয় আরও ১৫০ টাকা। সেখান থেকে সাত মাইল ফাঁড়ি গেলেই আটকায় পুলিশ সদস্যরা। তাদের ‘রোড ফি’ ২০০ টাকা। এরপর আছে নাভানা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি। কনস্টেবল থামালে ১০০ টাকাতেই ছাড় মেলে। তবে ট্রাফিক সার্জেন্টের চাহিদা বেশি। কমপক্ষে হাজার খানেক টাকা। অন্যথায় বিভিন্ন কাগজপত্র দেখার নাম করে হয়রানি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ ওত পেতে থাকে যশোর-খাজুরা রোডে। সেখানে প্রতি লোড গাড়ি বাবদ দিতে হয় ১০০-৩০০ টাকা। মধুখালীতে পৌঁছে দিতে হয় ১৫০ টাকা। মাগুরা পৌঁছলে ১০০ টাকা। রাজবাড়ি মোড়ে ২৫০ টাকা। পাটুরিয়া ঘাটে চাঁদা ২০০-৩০০ টাকা। দৌলতদিয়া ঘাটে দালালদের দিতে হয় ২০০-৫০০ টাকা। মানিকগঞ্জ ১৫০ টাকা। নয়ারহাট, নবীনগর, সাভার বাসস্ট্যান্ড ও হেমায়েতপুর এলাকাতেও এসে মেটাতে হয় পুলিশের চাঁদার চাহিদা। সর্বশেষ গাবতলী পৌঁছার আগে গুণতে হয় আরেক দফা চাঁদা। মিরপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পৌঁছামাত্র থানা ও ট্রাফিক পুলিশ মিলে ২০০-৩০০ টাকা নেয়। এতে ১৫টি পয়েন্টে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার অতিরিক্ত চাঁদা দিতে হয়। গরু ব্যবসায়ীরা জানান, ট্রাক ভাড়া, পুলিশ ও দালালদের চাঁদাসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে গরুর দাম নির্ধারণ করা হয়। এতে ন্যূনতম লাভ করতে গেলেও একটি গরুর কেনা দামের দ্বিগুণ দাম হাঁকাতে হয়। অন্যথায় লোকসান গুনতে হয়। একই অভিযোগ করেছেন কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা। কুমিল্লা ও চট্টগাম জেলার গরু ব্যবসায়ীরা জানান, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশকে কম টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা যায়। কিন্তু রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীতে প্রতি গরুর ট্রাক বাবদ গুণতে হচ্ছে ১০০০-২০০০ টাকা।
একইভাবে বাবুবাজারের ব্রিজে প্রতি ট্রাক বাবদ আদায় করা হচ্ছে ৩০০০-৪০০০ টাকা। কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী ওলিয়ার হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ১৯টি গরু আনতে প্রায় ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চাঁদাবাজির কারণেই ট্রাক ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। ট্রাক চালক রাজু বলেন, কুষ্টিয়া থেকে গাবতলী গরুর হাট পর্যন্ত কমপক্ষে চাঁদা দিতে হয় আটটি পয়েন্টে। দিনাজপুরের গরু ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, প্রতি গরুর কেনা দাম গড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা। কিন্তু এ হাটে একদিনে একটি গরু বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকা। দফায় দফায় খড় কুড়ানি, গোবর কুড়ানি ও পানি টানা পার্টিকে টাকা দিতে হচ্ছে। গরুর খাবারের দামও চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে। এতে ২০ হাজার টাকা দামের একটি গরু ৩০-৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করলেও লাভ হয় না। গরু ব্যবসায়ী সোলেমান বলেন, গাবতলী হাটে আছে ৭-৮ ধরনের টাউট-বাটপার। ট্রাক থেকে গরু আনলোড করার সময় এক শ্রেণীর দালাল হাজির হয়। সহজ-সরল ব্যবসায়ীদের গরু আনলোড করার জন্য প্রতি গরু থেকে ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নেয় তারা। প্রধান গেটের দালাল হৃদয় বলেন, পুরাতন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোন টাকা পাওয়া যায় না। তবে নতুন ব্যবসায়ীরা খুশি হয়েই ওই টাকা দেয়। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার গরু ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, গরুর খাবার যেমন ভুসি, চাল ও কুড়া কিনতে হবে গাবতলীর বিভিন্ন দালাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই। বাইরে থেকে আনা যায় না। এসব খাবারসহ তারা ঘাস ও খড়ের দাম রাখে চড়ামূল্যে। ট্রাক চালক জোবায়ের হোসেন, জামির ও আশরাফ বলেন, নিজেদের টাকা তো পুলিশকে দিচ্ছি না। পুলিশকে টাকা দেয়ার নির্দেশ আছে প্রত্যেক মালিকেরই। এছাড়া রাস্তার নানা পদের চাঁদার টাকা হিসাব করেই মোট ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে ব্যবসায়ীদের ভাড়া বেশি পড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাবনা জেলার ব্যবসায়ী মাহবুব বলেন, একটি গরু যে দামে কেনা হয় গাবতলী গরুর হাটে আনতে খরচ হয় তারও বেশি। এতে গরুর দাম হাঁকতে হয় দ্বিগুণের বেশি। কুষ্টিয়া জেলার নূর হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া থেকে গাবতলীতে একটি গরু আনতে দু’হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়। রাজধানীতে ঢোকার আগেই চাঁদা দিতে হয় আটটি পয়েন্টে। আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিল্লাত হোসেন বলেন, পথে পথে পুলিশের চাঁদাবাজির কারণেই পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় অযথা টোল ও ব্রিজ ভাড়ার নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। বিভিন্ন সমিতি ও কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
লাভে বিক্রি করেও লোকসানের মুখে পড়ছেন গরু ব্যবসায়ীরা। গাবতলী গরুর হাট সরজমিনে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। গরু ব্যবসায়ী, ট্রাক চালক ও মালিক সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানী ও এর বাইরে গরু ব্যবসায়ীরা নীরব চাঁদাবাজির শিকার। পুলিশই এক নম্বর চাঁদাবাজ। পথে পথে কৌশলে নিচ্ছে চাঁদার টাকা। পুলিশের চাঁদাবাজির কারণেই রাজধানীর গরুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সাতক্ষীরা থেকে গাবতলী গরুর হাটে একটি গরু আনতে ১৫টি পয়েন্টে পুলিশ ও চাঁদাবাজদের টাকা দিতে হয়। গরুর গাড়ি লোড করার জন্য স্থানীয় দালালদের মেটাতে হয় চাহিদা। সেখান থেকে রওনা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরা-খুলনা রোড মোড়ে ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স’ দিতে হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। কলারোয়া পৌরসভা মোড়ে ট্রাক থামিয়ে নেয় আরও ১৫০ টাকা। সেখান থেকে সাত মাইল ফাঁড়ি গেলেই আটকায় পুলিশ সদস্যরা। তাদের ‘রোড ফি’ ২০০ টাকা। এরপর আছে নাভানা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি। কনস্টেবল থামালে ১০০ টাকাতেই ছাড় মেলে। তবে ট্রাফিক সার্জেন্টের চাহিদা বেশি। কমপক্ষে হাজার খানেক টাকা। অন্যথায় বিভিন্ন কাগজপত্র দেখার নাম করে হয়রানি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ ওত পেতে থাকে যশোর-খাজুরা রোডে। সেখানে প্রতি লোড গাড়ি বাবদ দিতে হয় ১০০-৩০০ টাকা। মধুখালীতে পৌঁছে দিতে হয় ১৫০ টাকা। মাগুরা পৌঁছলে ১০০ টাকা। রাজবাড়ি মোড়ে ২৫০ টাকা। পাটুরিয়া ঘাটে চাঁদা ২০০-৩০০ টাকা। দৌলতদিয়া ঘাটে দালালদের দিতে হয় ২০০-৫০০ টাকা। মানিকগঞ্জ ১৫০ টাকা। নয়ারহাট, নবীনগর, সাভার বাসস্ট্যান্ড ও হেমায়েতপুর এলাকাতেও এসে মেটাতে হয় পুলিশের চাঁদার চাহিদা। সর্বশেষ গাবতলী পৌঁছার আগে গুণতে হয় আরেক দফা চাঁদা। মিরপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পৌঁছামাত্র থানা ও ট্রাফিক পুলিশ মিলে ২০০-৩০০ টাকা নেয়। এতে ১৫টি পয়েন্টে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার অতিরিক্ত চাঁদা দিতে হয়। গরু ব্যবসায়ীরা জানান, ট্রাক ভাড়া, পুলিশ ও দালালদের চাঁদাসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে গরুর দাম নির্ধারণ করা হয়। এতে ন্যূনতম লাভ করতে গেলেও একটি গরুর কেনা দামের দ্বিগুণ দাম হাঁকাতে হয়। অন্যথায় লোকসান গুনতে হয়। একই অভিযোগ করেছেন কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, পাবনা, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ীরা। কুমিল্লা ও চট্টগাম জেলার গরু ব্যবসায়ীরা জানান, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশকে কম টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা যায়। কিন্তু রাজধানীর সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীতে প্রতি গরুর ট্রাক বাবদ গুণতে হচ্ছে ১০০০-২০০০ টাকা।
একইভাবে বাবুবাজারের ব্রিজে প্রতি ট্রাক বাবদ আদায় করা হচ্ছে ৩০০০-৪০০০ টাকা। কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ী ওলিয়ার হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ১৯টি গরু আনতে প্রায় ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চাঁদাবাজির কারণেই ট্রাক ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। ট্রাক চালক রাজু বলেন, কুষ্টিয়া থেকে গাবতলী গরুর হাট পর্যন্ত কমপক্ষে চাঁদা দিতে হয় আটটি পয়েন্টে। দিনাজপুরের গরু ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, প্রতি গরুর কেনা দাম গড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা। কিন্তু এ হাটে একদিনে একটি গরু বাবদ খরচ হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকা। দফায় দফায় খড় কুড়ানি, গোবর কুড়ানি ও পানি টানা পার্টিকে টাকা দিতে হচ্ছে। গরুর খাবারের দামও চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে। এতে ২০ হাজার টাকা দামের একটি গরু ৩০-৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করলেও লাভ হয় না। গরু ব্যবসায়ী সোলেমান বলেন, গাবতলী হাটে আছে ৭-৮ ধরনের টাউট-বাটপার। ট্রাক থেকে গরু আনলোড করার সময় এক শ্রেণীর দালাল হাজির হয়। সহজ-সরল ব্যবসায়ীদের গরু আনলোড করার জন্য প্রতি গরু থেকে ১০০ টাকা করে হাতিয়ে নেয় তারা। প্রধান গেটের দালাল হৃদয় বলেন, পুরাতন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোন টাকা পাওয়া যায় না। তবে নতুন ব্যবসায়ীরা খুশি হয়েই ওই টাকা দেয়। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার গরু ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, গরুর খাবার যেমন ভুসি, চাল ও কুড়া কিনতে হবে গাবতলীর বিভিন্ন দালাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই। বাইরে থেকে আনা যায় না। এসব খাবারসহ তারা ঘাস ও খড়ের দাম রাখে চড়ামূল্যে। ট্রাক চালক জোবায়ের হোসেন, জামির ও আশরাফ বলেন, নিজেদের টাকা তো পুলিশকে দিচ্ছি না। পুলিশকে টাকা দেয়ার নির্দেশ আছে প্রত্যেক মালিকেরই। এছাড়া রাস্তার নানা পদের চাঁদার টাকা হিসাব করেই মোট ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে ব্যবসায়ীদের ভাড়া বেশি পড়ে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাবনা জেলার ব্যবসায়ী মাহবুব বলেন, একটি গরু যে দামে কেনা হয় গাবতলী গরুর হাটে আনতে খরচ হয় তারও বেশি। এতে গরুর দাম হাঁকতে হয় দ্বিগুণের বেশি। কুষ্টিয়া জেলার নূর হোসেন বলেন, কুষ্টিয়া থেকে গাবতলীতে একটি গরু আনতে দু’হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়। রাজধানীতে ঢোকার আগেই চাঁদা দিতে হয় আটটি পয়েন্টে। আন্তঃজেলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিল্লাত হোসেন বলেন, পথে পথে পুলিশের চাঁদাবাজির কারণেই পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় অযথা টোল ও ব্রিজ ভাড়ার নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। বিভিন্ন সমিতি ও কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদা আদায় করছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
